ইউরোপের দেশ স্পেনের পূর্বাঞ্চলীয় ভ্যালেন্সিয়া অঞ্চলের কাস্তেয়োন প্রদেশে ভয়াবহ ও অনিয়ন্ত্রিত দাবানলের কারণে প্রায় ৫০০ বাসিন্দাকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে জরুরি ভিত্তিতে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে৷ স্বাগতিক দেশের প্রভাবশালী রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘আরটিভিই’ (RTVE) এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে— গত রোববার (৫ জুলাই) শুরু হওয়া এই প্রলয়ংকরী দাবানলে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫০ হেক্টর চিরহরিৎ বনভূমি পুড়ে সম্পূর্ণ ছাই হয়ে গেছে৷ তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক আন্তর্জাতিক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে৷
উড়োজাহাজ মোতায়েন ও তীব্র তাপপ্রবাহের রানিং সংকট: আজ সোমবার (৬ জুলাই) সকাল থেকেই কাস্তেয়োনের পাহাড়ি বনাঞ্চলের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে স্পেন সরকারের পক্ষ থেকে বড় ধরনের বিশেষ উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে৷ আকাশপথে সরাসরি পানি ঢেলে আগুন নেভানোর কাজে বর্তমানে ১২টি বিশেষায়িত ওয়াটার-বোম্বার উড়োজাহাজ একযোগে মোতায়েন করা হয়েছে৷
তবে স্পেনের জাতীয় আবহাওয়া বিভাগ সতর্ক করে জানিয়েছে— দেশটিতে চলমান দ্বিতীয় দফার তীব্র গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহ দিনভর আরও বেশি মারাত্মক ও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে৷ বাতাসের আর্দ্রতা হ্রাস এবং তীব্র গরমের কারণে বনাঞ্চলের আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ আরও বেশি কঠিন ও রানিং ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে জরুরি সতর্কতা জারি করেছেন স্পেনীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তারা৷ কাস্তেয়োনের এই বিপর্যয়কর পরিস্থিতি সামাল দিতে পার্শ্ববর্তী আস্তুরিয়াস অঞ্চল থেকেও বিপুল সংখ্যক দমকলকর্মী ও লজিস্টিক সাপোর্ট এনে আগুন নেভানোর রানিং কাজে যুক্ত করা হয়েছে৷ এই দলগুলো গত ২৬ জুন থেকে স্পেনের অন্য এক পাহাড়ি এলাকায় শুরু হওয়া আরেকটি বনাঞ্চলের দাবানল নিয়ন্ত্রণেও দিনরাত কাজ করে আসছেন৷
কাতালোনিয়ায় জিরোনার আগুনে আহত ১৪: স্পেনের ভ্যালেন্সিয়ার পাশাপাশি দেশটির অন্য রাজ্য কাতালোনিয়ার জিরোনা এলাকাতেও দাবানল এক ধ্বংসাত্মক রূপ ধারণ করেছে৷ কাতালোনিয়ার জরুরি চিকিৎসা সেবা (এসইএম) আজ সোমবার সকালে জানিয়েছে— গত শুক্রবার জিরোনার গভীর বনাঞ্চলে শুরু হওয়া দাবানলের আগুনে দগ্ধ ও ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টজনিত কারণে আহত হয়ে এখন পর্যন্ত ১৪ জন নাগরিক হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন৷
জিরোনার প্রায় ২ হাজার ৩০০ হেক্টর বিশাল বনাঞ্চল ও কৃষিজমি পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া এই আগুনটি গত শনিবার দীর্ঘ প্রচেষ্টায় আংশিক নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছিল৷ তবে আজ সোমবার ভোর পর্যন্ত কয়েকশ দমকলকর্মী নতুন করে বনাঞ্চলে আগুন ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে এবং রানিং পকেট ফায়ারগুলো সম্পূর্ণ নির্বাপন করতে মাঠ পর্যায়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন৷ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপের এই রানিং দাবানল ও চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি বিশ্ব পরিবেশবিদদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে৷
