ভারতের কেরালার নির্বাচনি রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন ফাতিমা থাহিলিয়া। ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগের (আইইউএমএল) ইতিহাসে প্রথম নারী হিসেবে তিনি বিধায়ক (MLA) নির্বাচিত হয়েছেন। এই জয়ের মাধ্যমে তিনি কেবল নিজের দলের ইতিহাসই পাল্টে দেননি, বরং ক্ষমতাসীন বাম জোটের অন্যতম শক্ত ঘাঁটিতে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটিয়েছেন।
কোজিকোড় জেলার পেরাম্বরা আসনে তিনি কেরালার শাসকদল বাম গণতান্ত্রিক জোটের (এলডিএফ) সমন্বয়ক ও প্রভাবশালী সিপিআই (এম) প্রার্থী টিপি রামকৃষ্ণনকে পরাজিত করেন। ১৯৮০ সাল থেকে টানা ৪৬ বছর আসনটি সিপিআই-এর দখলে ছিল। দীর্ঘদিনের এই লাল দুর্গে ফাতিমার জয় কেরালার রাজনীতিতে নতুন এক সমীকরণ তৈরি করেছে।
পেশায় আইনজীবী ও কোজিকোড় পৌরসভার কাউন্সিলর ফাতিমা থাহিলিয়ার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে। তিনি মুসলিম স্টুডেন্টস ফেডারেশনের (এমএসএফ) নারী সংগঠন ‘হারিতা’-র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। তবে তাঁর পথ সহজ ছিল না। দলের ভেতরে শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হয়রানির অভিযোগের পক্ষে এবং নারী অধিকারের প্রশ্নে আপসহীন অবস্থানের কারণে একসময় তাঁকে পদ হারাতে হয়েছিল। সেই কঠিন সময় পাড়ি দিয়ে আজ তিনি মুসলিম লীগের প্রথম নারী বিধায়ক হিসেবে জয়ী হলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, থাহিলিয়া কেরালার রাজনীতিতে এক নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তিনি দলীয় কাঠামোর ভেতর থেকেও অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ও সংস্কারের প্রশ্ন তুলতে দ্বিধা করেন না। বর্তমানে তিনি মুসলিম ইয়ুথ লীগের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর এই জয়কে কেরালা তথা ভারতের মুসলিম নারী নেতৃত্বের এক বড় বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
