গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে শুল্ক যুদ্ধের উত্তেজনা কমিয়ে হঠাৎই সমঝোতার পথে হাঁটলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ন্যাটো মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি দ্বীপটি নিয়ে একটি ‘ভবিষ্যৎ চুক্তির রূপরেখা’ তৈরির ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে ইউরোপের কয়েকটি দেশের ওপর ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকা ১০ শতাংশ শুল্ক স্থগিত করার সিদ্ধান্ত জানান তিনি।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সাইডলাইনে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বৈঠক শেষে তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ড ও আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ একটি যৌথ কাঠামোতে কাজ করতে সম্মত হয়েছে।
গত কয়েকদিন ধরে গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে যে উত্তেজনা চলছিল, এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে সেখানে নাটকীয় মোড় আসে। ট্রাম্প জানান, নতুন এই সমঝোতার ভিত্তিতেই ইউরোপের ওপর আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া শুল্ক আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, গ্রিনল্যান্ড বিষয়ক এই সমঝোতা কিছুটা ‘জটিল’।
সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় গ্রিনল্যান্ডে ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপন এবং খনিজ সম্পদ আহরণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ যৌথভাবে কাজ করবে। তার দাবি, এই চুক্তির কাঠামো এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর থাকবে।
এর আগে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে নিজের অবস্থান কিছুটা নরম করে ট্রাম্প বলেন, দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নিতে যুক্তরাষ্ট্র কোনো সামরিক শক্তি বা বলপ্রয়োগের পথে যাবে না।
ট্রাম্পের এই অবস্থানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স রাসমুসেন। তিনি বলেন, শুল্ক আরোপ থেকে সরে আসা এবং শক্তি প্রয়োগ না করার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে গঠনমূলক কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। তবে তিনি সতর্ক করে জানান, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের কিছু পরিকল্পনা এখনো ডেনমার্কের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
এদিকে ট্রাম্প ও রুটের বৈঠকের আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি অনুমোদন সংক্রান্ত কার্যক্রম স্থগিত করার ঘোষণা দেয় ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের প্রচেষ্টা এবং এ বিষয়ে আপত্তি জানানো ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকির প্রতিবাদেই এই সিদ্ধান্ত নেয় ইইউর আইনপ্রণেতারা।
