ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের সালেম জেলার আত্তুর ডিটেনশন ক্যাম্প (বিশেষ ক্যাম্প) থেকে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ৫০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে স্বদেশে ফেরত পাঠানোর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে৷ ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ নির্বাসন আদেশের পর তাদের পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশে পুশব্যাক বা ফেরত পাঠানোর এই কার্যক্রম শুরু হয়৷ ফেরত পাঠানো এই নাগরিকদের মধ্যে ৪৪ জন পুরুষ এবং ৬ জন নারী রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় তামিলনাড়ু রাজ্য পুলিশ৷
আজ শনিবার (৪ জুলাই) ভারতের অন্যতম শীর্ষ ও প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’-র প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে৷
কঠোর নিরাপত্তায় হাওড়া এক্সপ্রেসে যাত্রা: প্রতিবেদনে বলা হয়েছে— বৈধ নথিপত্র না থাকায় এই বাংলাদেশি নাগরিকদের তামিলনাড়ুর সালেম জেলার আত্তুর তালুক অফিস কমপ্লেক্সে অবস্থিত বিশেষ ডিটেনশন ক্যাম্পে এতদিন রাখা হয়েছিল৷ গতকাল ৩রা জুলাই ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ছাড়পত্র মেলার পর কঠোর ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্যে তিনটি বিশেষ প্রিজন ভ্যানে করে তাদের প্রথমে তিরুচিরাপল্লিতে নিয়ে যাওয়া হয়৷
পরে তিরুচিরাপল্লি রেল স্টেশন থেকে বিশেষভাবে সংরক্ষিত রেলওয়ে কোচে করে তাদের হাওড়া এক্সপ্রেস ট্রেনে পশ্চিমবঙ্গের উদ্দেশে রানিং রওয়ানা করে দেওয়া হয়৷ দীর্ঘ এই রেলযাত্রায় কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সালেম আর্মড রিজার্ভ পুলিশের স্পেশাল কমান্ডোদের নেতৃত্বে ৪০ সদস্যের একটি সশস্ত্র টিম সার্বক্ষণিকভাবে তাদের সঙ্গে রয়েছে৷
হরিদাসপুর সীমান্তে হস্তান্তরের পরিকল্পনা: ভারতের রেলওয়ে ও সীমান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে— হাওড়া এক্সপ্রেস ট্রেনটি পশ্চিমবঙ্গে পৌঁছানোর পর এই ৫০ জন বাংলাদেশিকে সড়কপথে সরাসরি উত্তর চব্বিশ পরগনার হরিদাসপুর (বেনাপোলের বিপরীত পাশে অবস্থিত) স্থল সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হবে৷ সেখানে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হস্তান্তর করা হবে৷ পরবর্তীতে বিএসএফ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর মধ্যে ফ্ল্যাগ মিটিং ও আইনি যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের কাছে চূড়ান্তভাবে হস্তান্তর করা হবে৷
উল্লেখ্য— তামিলনাড়ু সরকার আত্তুর ডিটেনশন ক্যাম্পকে অনিয়মিত বা অবৈধ অভিবাসীদের সাময়িকভাবে আইনগত হেফাজতে আটকে রাখার জন্য ‘বিশেষ ক্যাম্প’ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে৷ ভারতীয় পুলিশের রানিং তথ্য অনুযায়ী— বর্তমানে এই বিশেষ ক্যাম্পে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ১৩০ জনেরও বেশি বিদেশি নাগরিক আটক রয়েছেন, যাদের সবার নামেই ভারতের আদালতে অনুপ্রবেশের মামলা বিচারাধীন রয়েছে অথবা তারা শর্তসাপেক্ষে জামিনে আছেন৷
