আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। এবার দেড় লাখের বেশি প্রশিক্ষিত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে। কোনো কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে কঠোরভাবে তা মোকাবেলা করা হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা ঘিরে শেরপুরে বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম নিহত হন। গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তফশিল ঘোষণার পর থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ১০ দিনে প্রায় ৫০টি আসনে দেড় শতাধিক হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় সরকারি হিসাবে ৪ জন নিহত হলেও টিআইবি জানিয়েছে নিহতের সংখ্যা ১৫ জন।

নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, সহিংসতার ঘটনাও তত বাড়ছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাল্টাপাল্টি হামলা ও সংঘর্ষে ভোটের পরিবেশে উত্তেজনা ছড়াচ্ছে, যা সাধারণ ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পুলিশের বিশেষ শাখার তালিকায় পাবনা, চট্টগ্রাম, পটুয়াখালীসহ ১০ জেলার ১৩টি আসনকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া এআইজি এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনায় রেখে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা বাহিনী থাকবে এবং সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলায় বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি ওয়ারলেস যোগাযোগ, স্ট্রাইক ও ব্যাকআপ টিম দ্রুত প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত থাকবে।

তিনি আরও জানান, ভোটের আগে ও পরে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও কোস্টগার্ডসহ প্রায় ৯ লাখ নিরাপত্তা সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন। যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা নির্বাচন বর্জনের পরিস্থিতি মাথায় রেখেই এই পরিকল্পনা করা হয়েছে। মূল লক্ষ্য হলো ভোটাধিকার নিশ্চিত করা।

এদিকে নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বাড়তি নজরদারি থাকবে। ফেসবুকে উস্কানিমূলক পোস্ট ও এআইসহ বিভিন্ন উৎস থেকে ছড়ানো তথ্য যাচাই-বাছাইয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশের সাইবার টিম।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *