ঐতিহাসিক ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালনের মহতী ক্ষণে দেশজুড়ে সম্ভাব্য যেকোনো ধরনের নাশকতা, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ এবং পলাতক ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগী আওয়ামী উগ্রবাদীদের রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড রুখে দিতে সারা দেশে নজিরবিহীন ও কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তুলেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী৷ কোনো ধরনের সুযোগসন্ধানী চক্র যেন দেশের সার্বিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে না পারে, সেজন্য পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, এপিবিএন, আনসার এবং একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে একটি সমন্বিত ও কঠোর নিরাপত্তা পরিকল্পনা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে৷

ষড়যন্ত্র ও গুজব রুখতে কড়া নজরদারি: পুলিশ সদর দপ্তর ও জাতীয় বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্র থেকে জানা গেছে— সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রীর একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া সাময়িক ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে আওয়ামী গুপ্ত নাশকতাকারী ও উগ্রবাদীরা যাতে প্রবেশ করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে৷

রাজধানীসহ দেশের বিভাগীয় শহর, জেলা সদর, স্মৃতিস্তম্ভ, শহীদ স্মরণ কর্মসূচির নির্দিষ্ট ভেন্যু এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাসমূহকে বিশেষ নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে৷ যেকোনো জরুরি ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মুহূর্তের মধ্যে মোকাবিলা করার জন্য পুলিশের চৌকস স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং বিশেষায়িত ‘সোয়াট’ (SWAT) টিমকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে৷ মহানগরের প্রবেশদ্বার ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে জোরদার করা হয়েছে তল্লাশি চৌকি৷ সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনগুলোতে চালানো হচ্ছে কড়া তল্লাশি৷

র‌্যাবের ত্রিমাত্রিক নিরাপত্তা ও সাইবার প্যাট্রোলিং: নিরাপত্তাব্যবস্থাকে নিখুঁত করতে এলিট ফোর্স র‌্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এবং প্রশিক্ষিত ডগ স্কোয়াড রাজধানীর বিভিন্ন স্মৃতিস্তম্ভ ও জনাকীর্ণ অনুষ্ঠানস্থলগুলোতে সুইপিং কার্যক্রম পরিচালনা করেছে৷ র‌্যাবের সদর দপ্তর জানিয়েছে— দিবসটি নির্বিঘ্ন করতে তাদের প্রতিটি ব্যাটালিয়ন নিজ নিজ এলাকায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিজিবির সাথে তথ্য আদান-প্রদান করে যৌথ ডিউটি পালন করছে৷ মাঠপর্যায়ের গোপন তথ্যদাতা ও প্রযুক্তিনির্ভর নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নিষিদ্ধ সংগঠনের সম্ভাব্য চোরাগোপ্তা হামলা ও উগ্রপন্থী তৎপরতার ওপর কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে৷

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল যাতে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে গুজব সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট ও র‌্যাবের সাইবার দল সার্বক্ষণিক সাইবার প্যাট্রোলিং (Cyber Patrolling) জোরদার করেছে৷ সন্দেহজনক আইডেন্টিটি ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে৷

পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) শাহাদাত হোসাইন এই বিশেষ নিরাপত্তা প্রস্তুতি প্রসঙ্গে বলেন— ‘দেশের সব মেট্রোপলিটন ও জেলা পুলিশকে স্থানীয় বাস্তবতার ভিত্তিতে সাধারণ মানুষের জানমালের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ নিষিদ্ধ সংগঠন বা পলাতক কোনো গোষ্ঠীর নাশকতা চেষ্টার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া মাত্রই কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷’ সারা দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ে আয়োজিত স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল যেন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হতে পারে, সেজন্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ছায়ার মতো কর্মসূচিগুলোর পাশে থেকে দায়িত্ব পালন করছে৷

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *