বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সঙ্গে থাকা ভারতের আন্তর্জাতিক সীমান্তের প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার এলাকায় নজরদারি ব্যবস্থা আমূল বদলে ফেলার জন্য বড় ধরনের এক নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছে নরেন্দ্র মোদির সরকার। সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত তৎপরতা বন্ধে এবার ড্রোন, রেডার এবং অত্যাধুনিক নজরদারি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নতুন দিল্লির এক অনুষ্ঠানে মোদি সরকারের এই নতুন সীমান্ত সুরক্ষা প্রকল্পের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন। দিল্লিতে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে অমিত শাহ জানান, আগামী এক বছরের মধ্যেই সীমান্ত আধুনিকায়নের এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ মাঠপর্যায়ে শুরু হয়ে যাবে।
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্তে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিএসএফ-কে এই সংক্রান্ত যাবতীয় প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত সহায়তা দেবে কেন্দ্রীয় সরকার। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে সীমান্ত সুরক্ষাকে ত্রুটিমুক্ত করাই তাদের মূল লক্ষ্য। একই সাথে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, বাংলাদেশ সীমান্তের যেসব স্পর্শকাতর ও নদীমাতৃক অঞ্চলগুলোতে এখনও কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভব হয়নি, সেখানে খুব দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে মোট ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশটি রয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সঙ্গে, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ২ হাজার ২১৯ কিলোমিটার।
পরিসংখ্যান বলছে, পশ্চিমবঙ্গের এই দীর্ঘ সীমান্তের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৬৫০ কিলোমিটারে ইতিমধ্যে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে। তবে ভৌগোলিক জটিলতা ও নদী এলাকার কারণে বাকি ৫৬৯ কিলোমিটারে এখনও কোনো কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া যায়নি। নতুন এই প্রকল্পের আওতায় এই ফাঁকা ও অরক্ষিত সীমান্ত এলাকাগুলোতে ড্রোন ও রেডারের মাধ্যমে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল নজরদারি (Digital Surveillance) বজায় রাখা হবে।
ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তা সমীকরণে ভারতের এই নতুন সীমান্ত নীতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে বাংলাদেশ সীমান্তে ড্রোনের এই সার্বক্ষণিক ব্যবহার আগামী দিনে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় নতুন প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা
