যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যেকার তীব্র সামরিক সংঘাত ও রক্তক্ষয়ী উত্তেজনার পর বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যতম লাইফলাইন ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে আবারও পণ্যবাহী ও জ্বালানি জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে পারে— এমন এক জোরালো আশার আলো দেখছেন বিশ্ববাজারের বিনিয়োগকারীরা৷ এই ইতিবাচক মনোভাবের রানিং প্রভাবে সপ্তাহের শেষ দিন শুক্রবার বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা হ্রাস পেয়েছে৷ তবে দৈনিক হিসাবে তেলের আন্তর্জাতিক দাম কিছুটা কমলেও পুরো সপ্তাহের সামগ্রিক হিসাব বিবেচনা করলে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির মূল্য এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেশি রয়েছে৷
ব্রেন্ট ক্রুড ও ডব্লিউটিআই-এর রানিং বাজার দর: আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী— শুক্রবার বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড (Brent Crude) অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫২ সেন্ট বা প্রায় শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমে ৭৫ দশমিক ৭৮ মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে৷ অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজার দর নির্ধারণকারী ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) অপরিশোধিত তেলের দাম একধাক্কায় ৮৩ সেন্ট বা প্রায় ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৭১ দশমিক ২৫ ডলারে৷ তবে বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন— দৈনিক পতন সত্ত্বেও পুরো সপ্তাহের হিসাবে সামগ্রিকভাবে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৫ দশমিক ১ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআই-এর দাম প্রায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে৷
কাতারের মধ্যস্থতা ও স্বস্তির রানিং হাওয়া: আন্তর্জাতিক এনার্জি খাতের শীর্ষ বিশ্লেষকদের মতে— মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যেকার সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি বিমান ও ড্রোন হামলা আপাতত আর নতুন করে না বাড়া এবং আগামী সপ্তাহে দুই বৈরি দেশের মধ্যে পুনরায় দ্বিপাক্ষিক রানিং আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের মনে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে৷ এর ফলে হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল পুনরায় সম্পূর্ণ আগের অবস্থায় স্বাভাবিক হওয়ার জোর আশা দেখা দিয়েছে৷
যুক্তরাজ্যের শীর্ষ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে— মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম রাষ্ট্র কাতারের বিশেষ কূটনৈতিক মধ্যস্থতাকারীরা সরাসরি ইরানে গিয়ে তেহরান প্রশাসনের সাথে সামরিক উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে সফল আলোচনা চালাচ্ছেন৷ এই কূটনৈতিক খবরটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পরপরই বিশ্ববাজারে তেলের চড়া দাম আরও কিছুটা হ্রাস পায়৷
আইইএ-এর কড়া সতর্কবার্তা ও বর্তমান পরিস্থিতি: তবে তেলের দাম কমলেও হরমুজ প্রণালির সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক বা ঝুঁকিমুক্ত হয়নি৷ বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেল ও গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে বড় বড় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আগের স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এখনো বেশ ধীরগতিতে রানিং রয়েছে৷ যদিও কড়া সামরিক পাহারার মাঝেই কয়েকটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বাহী জাহাজ ইতিমধ্যে সফলভাবে প্রণালিটি অতিক্রম করতে পেরেছে৷ এদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) এক কড়া বিবৃতিতে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে সতর্ক করে বলেছে— মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত যদি কোনো কারণে দীর্ঘায়িত হয়, তবে আগামী ২০২৭ সালের বৈশ্বিক তেলের বাজার ও সরবরাহ নিয়ে তাদের আগের করা সমস্ত পূর্বাভাস পুরোপুরি বদলে যেতে পারে৷
