দেশের সমুদ্রসীমা রক্ষা, বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। বিশেষ করে সাগরে মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে এবং অবৈধ জাটকা নিধন রোধে নৌবাহিনীর বর্তমান অভিযানগুলো জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রমের আওতায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, চাঁদপুর, খুলনা ও বরিশালসহ দেশের মোট ৯টি জেলায় সমন্বিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানের অংশ হিসেবে বরিশাল এলাকায় ‘বানৌজা তিতাস’ টহল ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। এ অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫১৪ কোটি ৬৮ লক্ষ ৯৩ হাজার ২১০ টাকা মূল্যের ৩ কোটি ৪০ লক্ষ মিটারের বেশি অবৈধ জাল জব্দ ও ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়াও ৮৬১টি নিষিদ্ধ জাল এবং ৩৭ কেজি জাটকাসহ একটি বোট জব্দ করা হয়। এই অভিযান আগামী ১৫ মে পর্যন্ত চলমান থাকবে।
দেশের মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধি ও প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে গত ১৫ এপ্রিল থেকে বঙ্গোপসাগরে ৫৮ দিনের জন্য সকল প্রকার মৎস্য আহরণ বন্ধের নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়নে বর্তমানে নৌবাহিনীর ৩টি বিশেষ জাহাজ গভীর সমুদ্রে মোতায়েন রয়েছে।
নৌবাহিনী কেবল অভিযানই চালাচ্ছে না, বরং উপকূলীয় জেলেদের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ ও সচেতন করছে। অভিযানে ৪৫ সেন্টিমিটারের কম ব্যাসের কারেন্ট জাল, চায়না দুয়ারি ও মশারি জালসহ সকল নিষিদ্ধ সরঞ্জাম ব্যবহারের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত জাটকাগুলো যথাযথ নিয়মে মৎস্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধিদের নিকট হস্তান্তর করা হচ্ছে।
নীল অর্থনীতির সুরক্ষা ও জাতীয় সম্পদ ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এই পেশাদার ভূমিকা সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে।
