ঝিনাইদহ শহরে জুমার নামাজ শেষে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে রাজধানীতে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে এনসিপি। একই সাথে এই হামলার জন্য বিএনপি ও ছাত্রদলকে সরাসরি দায়ী করে রাতের মধ্যেই আসামিদের গ্রেপ্তারের আলটিমেটাম দিয়েছেন দলটির শীর্ষ নেতারা।

আজ শুক্রবার বিকেল সোয়া ৫টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এনসিপির পক্ষ থেকে এক তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটির নেতৃত্ব দেন দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। মিছিলে এনসিপির নেতাকর্মীরা হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

মিছিল পরবর্তী এক অনুষ্ঠানে আসিফ মাহমুদ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতে হামলার যে সংস্কৃতি ছিল, সেটি আবার ফিরে আসছে। রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে না পেরে সহিংসতাকে কৌশল হিসেবে নেওয়া হচ্ছে।” তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সরকার যদি ভায়োলেন্সকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে নিতে চায়, তাহলে এটা আমাদের চেয়ে বেশি কেউ পারবে না। ২০২৪ সালে আমরা সেটা দেখিয়েছি। এই লড়াই কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নয়, এটা একটি প্রজন্মের সঙ্গে সংঘাত হয়ে যাবে।” ঝিনাইদহের ঘটনায় জড়িতদের ভিডিও ফুটেজ ও ছবি দেখে রাতের মধ্যেই গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যথায় তারা ভিন্ন পথ বেছে নিতে বাধ্য হবেন।

এদিকে হামলার একটি ভিডিও নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে শেয়ার করে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, “ঝিনাইদহে পুলিশের উপস্থিতিতে অতর্কিত হামলা করেছে বিএনপির সন্ত্রাসী বাহিনী। এমন ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। অবিলম্বে এসব সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।”

কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, “ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, তারেক রেজাসহ এনসিপি নেতৃবৃন্দের ওপর বিএনপির সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে।”

একই ঘটনায় ছাত্রদলকে অভিযুক্ত করে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ফেসবুকে লিখেছেন, “ঝিনাইদহে জুমার নামাজ শেষে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে।” এই হামলায় এনসিপির কয়েকজন নেতাকর্মী রক্তাক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

এর আগে আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও তার সঙ্গীদের ওপর এই হামলার ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজেই ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে তার ওপর হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ঝিনাইদহের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একদিকে ছাত্রদল যেমন এনসিপি নেতাদের সঙ্গে ‘অস্ত্রধারী শিবির সন্ত্রাসী’ থাকার অভিযোগ তুলছে, অন্যদিকে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব একে ‘বিএনপি-ছাত্রদলের সন্ত্রাসী হামলা’ বলে আখ্যা দিচ্ছে। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *