গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে এক বিস্ফোরক ও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন ময়মনসিংহ-৭ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান৷ তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন— বিগত ফ্যাসিবাদের শাসনামলে দেশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ তরুণ প্রজন্মকে চরমভাবে আঘাত ও রক্তাক্ত করার কারণে আগামী ৫০ বছরেও আওয়ামী লীগের বাংলাদেশের ক্ষমতায় ফিরে আসার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ ও সংকীর্ণ৷
আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৫তম দিনের সাধারণ বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন৷ বেলা ১১টায় শুরু হওয়া সংসদের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন নবনিযুক্ত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ৷
তিন প্রজন্মকে ‘ইনজুরড’ করার খতিয়ান: বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সাবেক শাসকদলের কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেন ডা. মাহবুবুর রহমান৷ তিনি বলেন, “আমি সরাসরি আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ্য করে বলতে চাই— তারা তাদের দীর্ঘ শাসনামলে এ দেশের পর পর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ তরুণ প্রজন্মকে ইনজুরড (আঘাত) করেছে৷ এর মধ্যে একটি স্কুল পর্যায়, একটি কলেজ পর্যায় এবং আরেকটি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থী৷”
তরুণদের এই ধারাবাহিক গণজাগরণের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান আরও বলেন— স্কুল শিক্ষার্থীদের ‘নিরাপদ সড়ক আন্দোলন’, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়াদের ‘কোটা সংস্কার আন্দোলন’ এবং সর্বশেষ চব্বিশের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার ছাত্র আন্দোলন ও ‘হাসিনা খেদাও’ আন্দোলনের মাধ্যমে ছাত্ররা ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়েছে৷ এই প্রতিটি যৌক্তিক আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্মম ও নিষ্ঠুর নির্যাতন চালানো হয়েছে, যা দেশের ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষ কখনো ভুলবে না৷
৫০ বছরের রাজনৈতিক সমীকরণ: সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান নিজের বক্তব্যের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “আওয়ামী লীগের বুলেটের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হওয়া এই তিনটি সচেতন ও সাহসী প্রজন্ম যতদিন জীবিত থাকবে এবং বাংলার মাটিতে বেঁচে থাকবে, ঠিক ততদিন— অর্থাৎ আগামী ৫০ বছর পর্যন্ত আওয়ামী লীগের দেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফিরে আসার কোনো রাজনৈতিক সম্ভাবনা আমি দেখি না এবং তাদের ফিরে আসার সুযোগ খুবই ক্ষীণ৷”
ত্রয়োদশ সংসদের বাজেট অধিবেশনে ময়মনসিংহ-৭ আসনের সংসদ সদস্যের এমন সাহসী ও তীক্ষ্ণ বক্তব্য দেওয়ার সময় উপস্থিত সংসদ সদস্যদের টেবিল চাপড়ে তাঁকে স্বাগত জানাতে দেখা যায়৷ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে— সংসদ সদস্যের এই দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক মূল্যায়ন ও বিশ্লেষণটি দেশের ভবিষ্যৎ ক্ষমতা ও ছাত্র রাজনীতির সমীকরণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে৷
