রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়া কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী ‘এসবি পরিবহন’-এর যাত্রীবাহী বাসটি সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে. বিআইডব্লিউটিএ-এর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র প্রায় এক ঘণ্টার অক্লান্ত চেষ্টায় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাসটি নদী থেকে টেনে তোলা সম্ভব হয়. স্বস্তির বিষয় হলো, দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে কোনো সাধারণ যাত্রী না থাকায় গত ২৫ মার্চের মতো বড় ধরনের কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি.
ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে. কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা বাসটি ঘাটের পন্টুন দিয়ে ফেরিতে ওঠার ঠিক আগেই সব যাত্রী বাস থেকে নেমে যান. ফলে বাসটি যখন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় পড়ে যায়, তখন ভেতরে কোনো যাত্রী ছিলেন না.
দুর্ঘটনার সময় বাসের ভেতর কেবল চালক, হেলপার (সহকারী) ও সুপারভাইজার অবস্থান করছিলেন. নদী থেকে তাঁদের তিনজনকে স্থানীয় জনতা ও উদ্ধারকর্মীরা জীবিত উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে পাঠিয়েছেন. ফেরিতে ওঠার আগে যাত্রীরা নেমে যাওয়ার দূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণেই আজ এক নিশ্চিত ও বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা মিলেছে.
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শক্তিশালী উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে. ডুবুরি দল ও জাহাজের ক্রুদের প্রায় এক ঘণ্টার যৌথ প্রচেষ্টায় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাসটিকে নদী থেকে টেনে পাড়ে তোলা হয়.
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী এসবি পরিবহনের বাসটি ৭ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়. তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি, যা অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক.
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে ফেরিতে ওঠার সময় কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকাগামী ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস একইভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে গিয়েছিল. ওই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল. আজকের ঘটনায় সেই একই ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি না হওয়ায় ঘাট এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে.
