সারাদেশের অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার এমপিও দ্রুত বাস্তবায়ন এবং দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা বকেয়া বেতন-ভাতা একযোগে ছাড়ের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দ্বিতীয় দিনের মতো দাফনের কাপড় পরে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছেন আন্দোলনকারী সাধারণ শিক্ষকেরা। গতকাল রোববার (৭ জুন) সকাল ১০টা থেকে এই কঠোর ও জীবনপণ কর্মসূচি শুরু করেন তারা।

আন্দোলনকারী শিক্ষক নেতৃবৃন্দ জানান, এর আগে অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষক কল্যাণ কমিটির কেন্দ্রীয় উদ্যোগে গত ২১ মে থেকে গত শনিবার (৬ জুন) নাগাদ শিক্ষকেরা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে টানা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ দিন রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করার পরও সরকারের পক্ষ থেকে দাবি আদায়ের কোনো দৃশ্যমান বা সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না মেলায় গতকাল রোববার থেকে শিক্ষকেরা বাধ্য হয়ে আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেছেন। সংগঠনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মাওলানা শামসুল হক আনছারীর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব হাফেজ মাওলানা মুফতী আব্দুল হান্নান হোসেনের সরাসরি নেতৃত্বে এই অনশন কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আগত কয়েকশো শিক্ষক নেতারা অংশ নিচ্ছেন।

অনশন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষক প্রতিনিধি অত্যন্ত ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল গণবিজ্ঞপ্তির আলোকে গত বছরের ৩ থেকে ১০ জুলাইয়ের মধ্যে দেশের সব বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় এমপিও আবেদন সঠিকভাবে সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আবেদন করার পর প্রায় ১০ মাস দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত একটি মাদ্রাসাকেও নতুন করে এমপিওভুক্ত করা হয়নি।

একই সঙ্গে শিক্ষকেরা অভিযোগ করেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত প্রশাসনিক অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন মাদ্রাসার শূন্য পদে সরকারি বিধি মেনে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জানুয়ারি ২০২৬ থেকে শুরু করে চলমান সময় পর্যন্ত কোনো বেতন-ভাতা বা বকেয়া ছাড় করা হয়নি। এর ফলে দেশের প্রায় ১ হাজার ৬৯০ জন শিক্ষক ও তাঁদের পরিবার দীর্ঘ দিন ধরে তাঁদের ন্যায্য রুজি-রোজগার ও অধিকার থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত হচ্ছেন। অনশনকারী শিক্ষকেরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে দাবি আদায়ের সুনির্দিষ্ট ও লিখিত প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত তারা দাফনের কাপড় পরেই রাজপথে অনশন চালিয়ে যাবেন।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *