দক্ষিণ ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি বিমান হামলার কয়েক ঘণ্টা পার হতে না হতেই তার তীব্র ও রক্তক্ষয়ী পাল্টা জবাব দিয়েছে তেহরান। ইরানের এলিট সামরিক বাহিনী ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পস (IRGC) দাবি করেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত একটি কৌশলগত বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে শক্তিশালী পাল্টা সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। মূলত ওই মার্কিন বিমানঘাঁটি থেকেই এর আগে ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ টাওয়ারে আক্রমণ চালানো হয়েছিল। ইরানি সংবাদ সংস্থা ফারসের (Fars News Agency) বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা আজ সোমবার এই মেগা ব্রেকিং নিউজটি প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরানের মূল ভূখণ্ডের সিরিক দ্বীপে অবস্থিত একটি কৌশলগত যোগাযোগ টাওয়ারে মার্কিন ফাইটার জেট হামলার কয়েক ঘণ্টার মাথায় ইরান এই অভাবনীয় ও আকস্মিক পাল্টা অভিযান চালায়। আইআরজিসির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে বলা হয়, তাদের চৌকস বিমানবাহিনী ও ড্রোন স্কোয়াড অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সেই নির্দিষ্ট মার্কিন বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়, যেখান থেকে ইরানের ওপর আগের আক্রমণটি পরিচালিত হয়েছিল। আইআরজিসির দাবি, তাদের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও সুইসাইড ড্রোনের আঘাতে আমেরিকার ওই ঘাঁটির নির্ধারিত সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলো সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা হয়েছে। তবে সামরিক ও কৌশলগত নিরাপত্তার কারণে ওই মার্কিন স্থাপনার সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক অবস্থান এখনো প্রকাশ করেনি তেহরান।

ইরানের এই ভয়াবহ পাল্টা মার্কিন ঘাঁটি অভিযানের পরপরই পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে তীব্র যুদ্ধ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ইরানের হামলার সাথে সাথেই পারস্য উপসাগরীয় দেশ কুয়েতে তাদের জাতীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Air Defense System) আচমকা সক্রিয় করা হয় এবং পুরো দেশজুড়ে সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় উচ্চশব্দে সাইরেন বাজতে শোনা যায়।

একই সময়ে অবরুদ্ধ সীমান্ত পরিস্থিতি বিবেচনা করে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলেও সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে জানিয়েছে, দেশের পশ্চিম গ্যালিলি, কিরিয়াত শমোনা এবং এর আশপাশের সমগ্র সীমান্ত এলাকায় সম্ভাব্য রকেট ও ড্রোন হামলার আশঙ্কায় দীর্ঘ সময় ধরে বিমান হামলার সতর্ক সাইরেন (Air Raid Sirens) বেজে ওঠে, যার ফলে সাধারণ বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান।

প্রতিরক্ষা ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক অঞ্চলে একই সঙ্গে এমন হাই-অ্যালার্ট জারি এবং দুই পরাশক্তির সরাসরি একে অপরের সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টাপাল্টি হামলার ভয়াবহ দাবি বর্তমান আঞ্চলিক উত্তেজনাকে একটি অনিয়ন্ত্রিত ও সর্বাত্মক মহাযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *