লিবিয়ার সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগার ‘জাওয়িয়া’র একটি বিশালাকার ডিজেল ও পেট্রল ট্যাংকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শোধনাগার কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক দাবি, ট্যাংকটি সরাসরি হামলার শিকার হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনা ঘটে। রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি ন্যাশনাল অয়েল করপোরেশন (এনওসি) জানিয়েছে, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ট্যাংকটিতে আনুমানিক ৪৫ লাখ লিটার প্রিমিয়াম পেট্রল ও জ্বালানি মজুত ছিল। ঘটনার আকস্মিকতায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় সর্বোচ্চ মাত্রার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে এবং এর পেছনে কারা জড়িত তা জানতে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে এনওসি।

এনওসির সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘ব্রেগা পেট্রোলিয়াম মার্কেটিং কোম্পানি’ এক বিবৃতিতে জানায়, খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার আপ্রাণ চেষ্টা চালান। এই অগ্নিকাণ্ডে ঠিক কী পরিমাণ অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে সামাজিকভাবে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া বেশ কিছু ভিডিওতে জাওয়িয়া শহরের আকাশে আগুনের সুবিশাল লেলিয়ান শিখা ও ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। তবে উক্ত ভিডিওগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

রাজধানী ত্রিপোলি থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত জাওয়িয়া শোধনাগারটি লিবিয়ার তেল অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। প্রতিদিন এটিতে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে। এটি লিবিয়ার অন্যতম প্রধান শারারা তেলক্ষেত্রের (দৈনিক উৎপাদনক্ষমতা ৩ লাখ ব্যারেল) সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

অগ্নিকাণ্ডের তীব্রতা সত্ত্বেও দুই প্রকৌশলী নিশ্চিত করেছেন যে, শোধনাগারটির মূল কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এবং অগ্নিনির্বাপণ তৎপরতার পাশাপাশি এটি চালু রাখা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, এই ঘটনার মাত্র দুই দিন আগে গত শনিবার ভোরে একই শোধনাগারের অপরিশোধিত ন্যাফথা রাখার একটি ট্যাংকে সন্দেহভাজন ড্রোন আঘাত হানে। ফলে দুই দিনের ব্যবধানে পরপর দুটি হামলার ঘটনা লিবিয়ার জ্বালানি খাতের নিরাপত্তাকে বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলেছে।

সূত্র: আরব নিউজ

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *