আমার অনুমতি না নিয়ে জাবের কীভাবে মামলার বাদী হলো? প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ওসমান হাদির বোনের প্রশ্ন
Featured, Latest, News, Politics, Popular, Trending #AbdullahAlJaber, #abongtv, #BangladeshNews, #DhakaPolitics, #EvercareHospital, #InkilabManch, #JulyRevolution2026, #MasumaHadiPost, #OmarFarukHadi, #SharifOsmanHadiজুলাই-আগস্ট বিপ্লবের অন্যতম বীর শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী হিসেবে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরের অন্তর্ভুক্ত হওয়া নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলেছেন নিহতের বোন মাসুমা হাদি. একই সঙ্গে ভাইয়ের মামলার বাদী হওয়া এবং তাঁদের পরিবারকে জড়িয়ে গত দুই দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা তীব্র ‘নোংরামি’ ও ‘মিথ্যাচার’ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সম্পূর্ণ ঘটনার এক আবেগঘন ও বিস্ফোরক ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি.
আজ শুক্রবার (৫ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ব্যক্তিগত আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে সেসময়ের চিকিৎসাধীন অবস্থার প্রেক্ষাপট এবং প্রশাসনের রহস্যজনক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মাসুমা হাদি.

ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার দিনের ভয়ংকর স্মৃতিচারণ করে মাসুমা হাদি লিখেছেন, ভাইয়ের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া মাত্রই তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়ে সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চলে যান. হাসপাতালে যাওয়ার পর থেকে তিনি এক মিনিটের জন্যও ওসমান গণিকে (শরীফ ওসমান হাদি) ছেড়ে নিচে পর্যন্ত যাননি.
সেসময়ের ঘটনার দিকে আঙুল তুলে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, “এখন আমার প্রশ্ন, প্রশাসনের লোক এভারকেয়ারে এসে জাবেরের কাছ থেকে সাইন নিল কেন? আর আমি উপস্থিত থাকাকালীন জাবের সাইন দিবে কেন?” এই নিয়ে বহুবার প্রশ্ন করা হলে তাকে বোঝানো হয়েছিল যে, ওসমানের ভাই ওমরের কাছে পুলিশ গিয়েছিল এবং ওমর তখন চিকিৎসার ব্যস্ততার কারণে পরে বিষয়টি দেখার কথা বলেছিল. মাসুমা হাদি মনে করিয়ে দেন যে, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারি মামলায় বাদীর ঘরে স্বাক্ষর আগে-পরে করা নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা থাকে না এবং বাদীপক্ষ মামলা না করলেও পুলিশ নিজস্ব প্রক্রিয়ায় আইনি কার্যক্রম চালাতে পারে.
মাসুমা হাদি প্রশ্ন তোলেন, “মামলার বাদীর ব্যাপারে কার কাছে বলছে, কে বলছে যে আমরা নিরাপত্তার জন্য বাদী হতে চাই না? এটা পরিষ্কার করতে হবে।” তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ওসমানের সাথে যারা দীর্ঘদিন চলাফেরা করেছে তারা সবাই জানে ওসমানের জীবনে তার ছোট আপু কতটা জড়িয়ে ছিল. সেই ছোট আপুর কাছে না এসে কার অনুমতি নিয়ে জাবের মামলার বাদী হলো, তা পরিষ্কার করার দাবি জানান তিনি.
সেদিনের বিভীষিকাময় পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, একই রিকশায় দুই ভাই থাকায় ওসমান গণির রক্তে ওমরের ফারুকের পোশাক ও হাতঘড়ি রক্তাক্ত ছিল. বুলেট আর একটা বের হলে ওমরও ওখানেই ওসমানের মতো শেষ হয়ে যেত. ওসমানকে যেদিন সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়, সেদিন সকালে ওমর এভারকেয়ারে গোসল করে ঘড়ির রক্তের দাগ পরিষ্কার করে. ওমরের পরিহিত ঘড়ি, ব্লেজার ও মোবাইলের দামের প্রসঙ্গ টেনে হাদির বোন বলেন, এগুলো অনেক বছর আগের কেনা, তাই না বুঝে কেউ যেন ওমরের লাইফস্টাইল নিয়ে নোংরামি করার চেষ্টা না করে.
ওসমান হাদির চিকিৎসা নিয়ে ছড়ানো গুজবের জবাবে মাসুমা হাদি জানান, এভারকেয়ারে থাকাকালীন অনেকেই চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে চাইলেও তারা পারিবারিক সম্মতিতে তা নেননি. ওসমানকে দেশের বাইরে নেওয়ার জন্য সর্বপ্রথম ওমর ফারুক ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেন এবং থাইল্যান্ডের হাসপাতালের সম্মতি মেলা পর একান্ত ব্যক্তিগত অর্থায়নে ৫২ লাখ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে আনেন. ওমরের এই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের কথা জানার পরই মূলত সরকার ওসমানের চিকিৎসার দায়িত্ব নেয় এবং দ্বিতীয় দফায় সিঙ্গাপুরে কাগজপত্র পাঠিয়ে তাকে সেখানে পাঠানোর ব্যবস্থা করে.
বিপ্লবী ভাইয়ের মৃত্যুর পর এই বেঁচে থাকার লড়াই কতটা কঠিন তা উল্লেখ করে মাসুমা হাদি অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে পোস্টে যোগ করেন, “একজন বিপ্লবীকে সম্মান করতে হলে তার পরিবারকে নিয়ে কীভাবে এত মিথ্যাচার করা যায়? সম্মান করতে নাই পারেন, কিন্তু কিছু না জেনে অসম্মান করার অধিকার কোথায় পেলেন?”
