মাত্র ৩৮ বছর বয়সে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে আফ্রিকার অন্যতম আলোচিত নেতা হয়ে উঠেছেন ইব্রাহিম ট্রাওরে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে বুরকিনা ফাসোর ক্ষমতা দখলের পর তিনি ফরাসি সেনাদের দেশ ছাড়তে বলেন এবং রাশিয়ার সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করেন। সমর্থকদের কাছে তিনি জাতীয় সার্বভৌমত্ব, ঔপনিবেশিক প্রভাব থেকে মুক্তি এবং আত্মনির্ভরশীলতার প্রতীক। তবে তার নেতৃত্বকে ঘিরে বাড়ছে নানা প্রশ্ন।

বুরকিনা ফাসো প্রায় এক দশক ধরে আল-কায়েদা ও আইএস-সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় বিপর্যস্ত। সরকারের দাবি, সামরিক অভিযান জোরদার হওয়ায় বেশ কয়েকটি এলাকা আবারও সরকারের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে স্বাধীন বিশ্লেষকদের মতে, দেশজুড়ে হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং ২০ লাখের বেশি মানুষ এখনো বাস্তুচ্যুত।

সবচেয়ে বড় বিতর্ক শুরু হয় এ বছরের এপ্রিলে ট্রাওরে দেশবাসীকে ‘গণতন্ত্র ভুলে যেতে’ বললে। এর আগে সামরিক সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের মেয়াদ বাড়ানো হয় এবং বিলুপ্ত করা হয় রাজনৈতিক দলগুলো। এ ছাড়া রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের ওপর বিধিনিষেধ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা। সম্প্রতি ধর্মীয় স্বাধীনতা আইন প্রণয়নের পর কয়েকজন সুন্নি আলেমকে গ্রেফতার করেছে প্রশাসন।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাওরের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো সার্বভৌমত্ব ও আত্মনির্ভরশীলতার বার্তাকে শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতীকে পরিণত করা। তবে তার সরকারের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি, বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্ভোগ কমানো এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর। রাজধানী ওয়াগাদুগুর এক যুবনেতার ভাষায়, ‘পশ্চিমা বিশ্বের সামনে মাথা নত না করা একজন নেতাকে দেখে আমরা গর্বিত। কিন্তু শুধু গর্ব দিয়ে পরিবার চলে না, গ্রামও নিরাপদ হয় না।’

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *