বাহরাইন ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও নৌঘাঁটিতে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এবার ইরানের অভ্যন্তরে ও উপকূলীয় এলাকায় নজিরবিহীন ও ভয়াবহ পাল্টা সামরিক হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র৷ মঙ্গলবার রাতে স্ট্র্যাটেজিক বা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর হরমুজ প্রণালি এবং ইরানের উপকূলীয় এলাকার কাছাকাছি কয়েক ডজন ইরানি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে এই সুনির্দিষ্ট বিমান ও নৌ হামলা চালানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম-CENTCOM)৷

সাত ঘণ্টাব্যাপী মার্কিন অপারেশন ও রাডার ধ্বংসের জবাব: সেন্টকমের পক্ষ থেকে আজ বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে প্রকাশিত এক বিশেষ সামরিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে— মঙ্গলবার রাতভর চলা প্রায় সাত ঘণ্টাব্যাপী এই বিধ্বংসী অভিযানে মার্কিন বিমানবাহিনীর অত্যাধুনিক স্টিলথ যুদ্ধবিমান, মানববিহীন ড্রোন এবং সমুদ্রে অবস্থানরত মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও নৌযানগুলো একযোগে অংশ নেয়৷ এই যৌথ বাহিনী ইরানের মূল ভূখণ্ডের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত ঘাঁটি, নৌবাহিনীর কমান্ড সেন্টার এবং উপকূলীয় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার (Air Defense Systems) ওপর একের পর এক অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও সফল হামলা পরিচালনা করেছে৷

ইউএস সেন্টকমের দাবি— এই সর্বশেষ ও শক্তিশালী হামলার মূল সামরিক লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলকারী বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানোর যে ইরানি সক্ষমতা রয়েছে, তা চিরতরে অবশ ও দুর্বল করে দেওয়া৷

পুনরায় নৌ অবরোধ ও বিশ্ব অর্থনীতিতে ধাক্কা: পেন্টাগন ও সেন্টকমের বিবৃতিতে আরও জানানো হয়— এই বিধ্বংসী পদক্ষেপটি ঠিক এমন এক দিনে নেওয়া হয়েছে, যেদিন মার্কিন নৌবাহিনী ও যৌথ টাস্কফোর্স ইরানের সমস্ত আন্তর্জাতিক বন্দর এবং উপকূলীয় এলাকা থেকে যাতায়াতকারী বা তেল পরিবহনকারী জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর নৌ অবরোধ (Naval Blockade) পুনরায় শুরু করেছে৷ এর ফলে পারস্য উপসাগর থেকে ইরানের কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ বা তেল ট্যাংকার আন্তর্জাতিক জলসীমায় প্রবেশ করতে পারবে না৷

আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে— জর্ডান ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের আইআরজিসির সাম্প্রতিক হামলার পর হোয়াইট হাউজ ও পেন্টাগন যে চরম ক্ষুব্ধ ছিল, ইরানের ভেতরে এই ৭ ঘণ্টার হামলাই তার প্রমাণ৷ এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহের চেইন সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার মুখে পড়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে এক ভয়াবহ মন্দা ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে৷

সূত্র: আল জাজিরা

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *