পাকিস্তান, তুরস্ক এবং সৌদি আরবের মধ্যে সম্পাদিত নতুন ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা চুক্তি তেহরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত হচ্ছে—এমন আশঙ্কার কোনো কারণ নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছে ইরান। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ খবর নিশ্চিত করেছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি বলেন, “নতুন এই প্রতিরক্ষা চুক্তিটি মূলত মধ্যপ্রাচ্য ও পার্শ্ববর্তী আঞ্চলিক দেশগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নীতিতে পরিবর্তনের ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে। এতে বহিরাগত বা পশ্চিমা শক্তির ওপর অন্ধ নির্ভরতার পরিবর্তে নিজেদের ভৌগোলিক সক্ষমতার ওপর বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে।”

ইসমাইল বাঘায়ি আরও জোর দিয়ে বলেন, এই নিরাপত্তা চুক্তি নিয়ে কৌশলগতভাবে ইরানের উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কোনো কারণ নেই।

ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের মতে, “আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বাস্তবতার ভিত্তিতে যদি কোনো সমন্বিত পরিকল্পনা করা হয়, যা ব্যাপক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে এবং প্রকৃত শত্রু ও হুমকিকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে পারবে—তবে তা অবশ্যই সার্বিক আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে সহায়ক হবে।”

এ সময় ইসরায়েলের নাম পরোক্ষভাবে উল্লেখ করে তিনি মন্তব্য করেন, আঞ্চলিক অংশীদারদের সমন্বিত এ ধরনের পদক্ষেপ যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি কিংবা ‘ইহুদিবাদী শত্রু’ ও তার পশ্চিমা মিত্রদের অপব্যবহার ও প্রভাব ঠেকাতেও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে এর আগে এই চুক্তি ঘিরে ইরানি আইনপ্রণেতাদের মধ্যে কিছুটা কড়া প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের সদস্য ইব্রাহিম রেজায়ি সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, ইসলামাবাদ ও আঙ্কারার সঙ্গে রিয়াদের কেবল চুক্তির স্বাক্ষর তাদের পূর্ণ নিরাপত্তা দিতে পারবে না।

ইব্রাহিম রেজায়ি বলেছিলেন, “সৌদিদের অনুধাবন করা উচিত, এসব কাগুজে চুক্তি বা বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর একতরফা নির্ভরশীলতা কোনোটিই তাদের চিরস্থায়ী সুরক্ষা নিশ্চিত করেনি। নিরাপত্তার জন্য অন্যদের দুয়ারে না গিয়ে নিজেদের নীতিতে পরিবর্তন আনাই বুদ্ধিমানের কাজ।”

তা সত্ত্বেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের মাধ্যমে তেহরান স্পষ্ট বার্তা দিল যে, এই প্রতিরক্ষা জোটকে তারা সংঘাতময় না ভেবে আঞ্চলিক সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবেই বিবেচনা করছে।

সূত্র : রয়টার্স

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *