ভারতের তরুণ উদীয়মান ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশীর বয়স নিয়ে গত এক বছরে নানা সময়ে কৌতূহল ও বিতর্ক তৈরি হলেও, উইকেটে তাঁর চার-ছক্কার ঝড় আর আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের সামনে সেসব আলোচনা অনেকটাই ঢাকা পড়েছে। তবে ভারতের বাইরে এখনো তাঁর বয়স নিয়ে কৌতুহল রয়ে গেছে বলে মনে করেন অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট কিংবদন্তি ও সাবেক দ্রুতগতির পেসার ব্রেট লি।
যদিও ব্রেট লির মতে, বৈভবের বয়স ১৫, ১৬, ১৭ নাকি ১৮—তা নিয়ে মাথা ঘামানোর কোনো প্রয়োজন নেই; আসল বিষয় হলো বাইশ গজে তাঁর ব্যাটিং প্রতিভার মান।
সম্প্রতি নিজের ইউটিউব চ্যানেলে এক আলোচনায় বৈভবকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ব্রেট লি বলেন, “ভারতের বাইরে অনেকেই এখনো প্রশ্ন করেন যে ও সত্যিই ১৫ বছরের কি না। তবে ওর বয়স কত, তা আমার কাছে একদমই গুরুত্বপূর্ণ নয়। বয়স ১৫ হলে দারুণ, আর যদি ১৭ বা ১৮-ও হয়, তাতে কী এসে যায়? এই ছেলেটা ক্রিকেট খেলতে জানে। ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য ও এক দারুণ আবিষ্কার এবং ভবিষ্যতে বিশ্ব ক্রিকেট শাসন করবে।”
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) বৈভবের ঝোড়ো পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করেন লি। বিশেষ করে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে খেলা ৯৭ রানের ইনিংসটির কথা আলাদাভাবে স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ ও গতির বোলারদের বিপক্ষে বৈভবের বুক চিতিয়ে খেলা পুল ও হুক শট তাঁর প্রবল আত্মবিশ্বাসেরই প্রমাণ বহন করে বলে মনে করেন লি।
অজি কিংবদন্তি বলেন, “ও আসলেই অসাধারণ। খুবই কম সময়ে আইপিএলে নিজস্ব ছাপ ফেলেছে। হায়দরাবাদের বিপক্ষে ৯৭ রানের ইনিংসে অজি বোলারদের ও যেভাবে খেলেছে, তা অবিশ্বাস্য! অজিরা চরম গতিতে বল করছিল, আর বৈভব একদম চোখের সামনে আসা বলও অনায়াসে হুক করে বাউন্ডারির বাইরে পাঠাচ্ছিল। সঠিক শটের পাশাপাশি ওর শটে অসাধারণ শক্তি ছিল।”
তবে বৈভবের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ব্যাটিংয়ের চেয়ে তাঁর মানসিক দিক বজায় রাখা বলে মনে করেন লি। তাই এখনই এই কিশোরের ওপর অতিরিক্ত প্রত্যাশার চাপ না চাপানোর তাগিদ দেন তিনি, “ওর ফর্ম বা ব্যাটিং স্কিল নিয়ে সমস্যা হবে না। মূল চ্যালেঞ্জ হবে ওর মানসিকভাবে সামলে থাকা। ও এখনো অনেক ছোট, ওকে এক একজন বাচ্চার মতোই স্বাভাবিক থাকতে দিন। ওর কাঁধে খুব বেশি বোঝা চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না।”
বৈভবের মতো প্রতিভাবান ব্যাটারকে বল করার কৌশল জানতে চাইলে সাবেক এই অজি স্পিডস্টার জানান, এমন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে তিনি সবসময় মুখিয়ে থাকতেন। ব্রেট লির ভাষায়, “কেউ খুব ভালো হুক বা পুল করলে আমি পছন্দই করি, কারণ তখন লড়াইটা জমে ওঠে। ড্রেসিংরুমে ভিডিও দেখে পরিকল্পনা সাজাতাম এবং ওর শরীর লক্ষ্য করে তীব্র গতিতে বল করতাম। হয়তো ছক্কা পেতাম, কিন্তু দমে যেতাম না; আবার একই জায়গায় আক্রমণ করতাম।”
বয়স বিতর্ক পাশে সরিয়ে মাঠের ক্রিকেটীয় দক্ষতা ও সহজাত প্রতিভাকেই মূল বিবেচ্য বিষয় হিসেবে দেখার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন ব্রেট লি।
তথ্যসূত্র : ডিএনএ ইন্ডিয়া
