যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পাদিত ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারককে (এমওইউ) আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ কাতার৷ দোহা মনে করে, এই দ্বিপক্ষীয় চুক্তিটি দীর্ঘদিনের অশান্ত ও যুদ্ধবিধ্বস্ত মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ৷
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি এক বিবৃতিতে জানান, বন্ধুরাষ্ট্র পাকিস্তানের মূল মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘদিনের গভীর মতপার্থক্য এবং বৈরিতা কমিয়ে আনার প্রচেষ্টায় কাতার সবসময় পেছন থেকে সহযোগিতা করেছে৷ তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, কাতার এই শান্তি প্রক্রিয়ায় সরাসরি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখেনি, বরং সংকট নিরসনে একটি অন্যতম প্রধান সহযোগী রাষ্ট্র হিসেবে কাজ করেছে৷
মাজেদ আল-আনসারি জানান, দুই পারমাণবিক ও সামরিক শক্তির মধ্যকার এই দীর্ঘ আলোচনার মূল ফোকাস বা প্রধান বিষয় ছিল কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালিতে’ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সাধারণ নৌ চলাচল সম্পূর্ণ নিরাপদ ও নিশ্চিত করা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক জলপথটিকে আবারও কোনো বাধা ছাড়াই সব ধরনের জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা৷ কাতার দৃঢ়ভাবে আশা প্রকাশ করছে যে, আসন্ন এই চূড়ান্ত সমঝোতার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে যাবে এবং সেখানে আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে সম্পূর্ণ টোলমুক্ত ও স্বাভাবিক নৌ চলাচল নিশ্চিত হবে৷
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে জানান, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিতব্য উচ্চপর্যায়ের ফলো-আপ বৈঠকে কাতারের বিশেষ প্রতিনিধিরা সরাসরি উপস্থিত থাকবেন৷ এই চুক্তি সফলভাবে বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে কাতার সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে নিবিড় ও কার্যকর কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে৷
এদিকে, এই ঐতিহাসিক চুক্তির পেছনে কাতার কোনো ধরনের বড় আর্থিক সহায়তা বা তহবিল দিয়েছে— আন্তর্জাতিক মহলে ছড়িয়ে পড়া এমন দাবিকে সম্পূর্ণভাবে নাকচ করে দিয়েছে দেশটি৷ কাতারের পক্ষ থেকে সাফ দাবি করা হয়েছে, তারা এই শান্তি প্রক্রিয়ায় কোনো আর্থিক লেনদেন বা অর্থ দেয়নি; বরং চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে যে অর্থনৈতিক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, তা যৌথভাবে মোকাবিলা করতে একটি সুদূরপ্রসারী আন্তর্জাতিক সমন্বয় চলছে মাত্র৷
গাজা ও লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ: বিবৃতিতে গাজা এবং লেবাননের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়েও কাতারের পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে৷ দোহা স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা অবরুদ্ধ গাজায় স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সবসময় অব্যাহত রাখবে৷ একই সঙ্গে লেবাননের অভ্যন্তরে ইসরাইলের সাম্প্রতিক সামরিক হামলাকে দেশটির সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন বলে কড়া ভাষায় উল্লেখ করেছে কাতার৷ মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক শান্তি বজায় রাখতে এই অঞ্চলে নতুন করে আর কোনো উত্তেজনা সৃষ্টি না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছে দোহা৷
