সাম্য, ত্যাগ ও মানবিকতার অনন্য বার্তা নিয়ে ভারতজুড়ে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল থেকেই দিল্লির ঐতিহাসিক জামে মসজিদ থেকে শুরু করে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী মসজিদ ও ময়দানগুলোতে ঢল নামে হাজার হাজার মুসল্লির।
কলকাতায় এবারের ঈদুল আজহার প্রধান আকর্ষণ ছিল এর ভেন্যু পরিবর্তন। দীর্ঘ কয়েক দশকের ঐতিহ্য ভেঙে এবারই প্রথমবারের মতো রেড রোডের বদলে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে। ভারতীয় সময় সকাল সাড়ে আটটায় অনুষ্ঠিত এই জামাতে অংশ নেন হাজার হাজার মুসল্লি। নামাজ শেষে বিশ্বশান্তি ও ভ্রাতৃত্ব কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয় এবং মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
কলকাতার ১৯২০ সাল থেকে ঈদের জামাত আয়োজন করে আসা খিলাফত কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইশতেক আহমেদ জানান, ১৯৭৮ সাল থেকে নিয়মিতভাবে রেড রোডে বৃহৎ ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। তবে রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এবার সেই ঐতিহ্যের নতুন ঠিকানা হয়েছে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড। প্রথমবারের এই আয়োজনকে সফল করতে মাঠজুড়ে শতাধিক লাউডস্পিকার, বিশেষ ইমামতি মঞ্চ, অস্থায়ী শৌচাগার এবং গাড়ি পার্কিংয়ের বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়। কলকাতা পুলিশ এবং খিলাফত কমিটির যৌথ ব্যবস্থাপনায় কড়া নিরাপত্তায় শান্তিপূর্ণভাবে নামাজ সম্পন্ন হয়।
নতুন এই ভেন্যুকে স্বাগত জানিয়ে অনেক নামাজি বলেন, বহু ঐতিহাসিক রাজনৈতিক ও সামাজিক ঘটনার সাক্ষী এই ব্রিগেড ময়দানে প্রথমবারের মতো ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হওয়াটা এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। ব্রিগেড ছাড়াও কলকাতার নাখোদা মসজিদ, টিপু সুলতান মসজিদ ও পার্ক সার্কাস ময়দানেও ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে গুরু কোরবানির ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ থাকায় যেকোনো ধরনের বিতর্ক এড়াতে রাজ্যের মুসলিম সম্প্রদায় ছাগল ও দুম্বা কোরবানি দিয়ে ঈদের আনুষ্ঠানিকতা পালন করছেন। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও দিল্লি, মুম্বাই, হায়দরাবাদ, উত্তরপ্রদেশ, আসাম, ত্রিপুরা, জম্মু-কাশ্মীর ও বিহারসহ পুরো ভারতে আনন্দঘন পরিবেশে ঈদ উদযাপিত হচ্ছে।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে দেওয়া এক শুভেচ্ছা বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লেখেন, “ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা! এই উপলক্ষটি আমাদের সমাজে ভ্রাতৃত্ব ও আনন্দের চেতনাকে আরও গভীর করুক। সবার সাফল্য ও সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রার্থনা করছি।”
