বিচার প্রক্রিয়ার শেষ ধাপে পল্লবীর শিশু রামিসা হত্যা মামলা, শুনানি আজ

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী রামিসা আক্তারকে (৮) ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আজ আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাচ্ছেন দুই প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার।

আজ বুধবার (৩ জুন) সকাল ১০টায় ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। শুনানি শেষে আদালত মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ বা যুক্তিতর্কের জন্য দিন ধার্য করবেন।

এর আগে সকালে কড়া নিরাপত্তায় আসামি সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে তাদের আদালতের মহানগর হাজতখানায় রাখা হয়েছে।

আদালত ও রাষ্ট্রপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করেন। মামলার বাদী ও শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার জবানবন্দির মাধ্যমে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্য সাক্ষীরা আদালতে জবানবন্দি দেন। রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কলিমউল্লাহ তাদের জেরা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আজ আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য দিন ধার্য করেছিলেন।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকালে স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে তাদের ঘরে ডেকে নেয়। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে আসামির ঘরের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান তার মা। ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং একটি বালতির ভেতর তার কাটা মাথা উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার দিনই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ স্বপ্নাকে আটক করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে। ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। গত ২৪ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন এবং ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মামলাটি এখন রায়ের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *