মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে অস্থির তেলের বাজার: বাড়তে পারে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। আজ বুধবার (৩ জুন) টানা তৃতীয় দিনের মতো অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৫ দশমিক ৪০ ডলারে পৌঁছেছে। তেলের দাম বাড়ার এই ধাক্কায় বিশ্ববাজারে ডলারের মান শক্তিশালী হলেও বিপরীতমুখী প্রবণতায় কমেছে স্বর্ণের দাম।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার প্রভাবে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৭৬ দশমিক ৫০ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে আগামী আগস্টে ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার মূল্য শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৫০৪ দশমিক ৪০ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে জ্বালানি তেলের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির চাপ আরও তীব্র হতে পারে। এর ফলে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভসহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসতে পারে কিংবা আরও সতর্ক অবস্থান নিতে পারে।

এদিকে মুদ্রা বাজারে ডলারের মান জাপানি ইয়েনের বিপরীতে ১৬০ ইয়েনের কাছাকাছি পৌঁছালেও এক ধরনের স্থবিরতা দেখা গেছে। বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, ইয়েনের পতন ঠেকাতে জাপান সরকার যেকোনো সময় বাজারে হস্তক্ষেপ করতে পারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচার্স সূচক কিছুটা কমলেও এশিয়ার শেয়ারবাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের ওপর ভর করে ব্যাপক চাঙ্গা ভাব দেখা গেছে। ফলে তাইওয়ান ও জাপানের শেয়ারবাজার রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছে।

কেসিএম ট্রেডের প্রধান মার্কেট অ্যানালিস্ট টিম ওয়াটারার জানান, জ্বালানি তেলের বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার অগ্রগতির ওপর। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ নিয়ে ইরানের হুমকি এবং এই জলপথ দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলের বাস্তব পরিস্থিতির ওপরই তেলের দামের আগামী দিনের ওঠানামা নির্ভর করছে। আলোচনা ইতিবাচক হলে তেলের বাজারের এই অস্থিরতা কমবে, অন্যথায় মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি আরও বাড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *