অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ, প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজ নিশ্চিত

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ক্রিকেটের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনা করল বাংলাদেশ৷ তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে সফরকারীদের ৫ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ নিশ্চিত করেছে টাইগাররা৷ মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের এই ঐতিহাসিক জয় এক ম্যাচ হাতে রেখেই ধরা দিল৷

আজ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক জশ ইংলিস৷ কিন্তু ইনিংসের শুরু থেকেই স্বাগতিক বোলারদের দারুণ বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে চরম ধস নামে৷ ইনিংসের চতুর্থ বলেই ওপেনার ম্যাথু শর্টকে বোল্ড করে সাজঘরে পাঠান তাসকিন আহমেদ৷ পরের ওভারেই মোস্তাফিজুর রহমান ফেরান কুপার কনোলিকে৷ এরপর ম্যাথু রেনশও আউট হলে কোনো রান না তুলেই ৩ উইকেট হারিয়ে বসে অস্ট্রেলিয়া৷ ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসে এটি ছিল শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার জন্য এক বিরল ও বিব্রতকর পরিস্থিতি৷

এরপর জশ ইংলিস ও অ্যালেক্স ক্যারি কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও বাংলাদেশের পেসার ও স্পিনারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে সফরকারীরা৷ ক্যামেরন গ্রিন ৩৪ রান করলেও নিজের ইনিংস বড় করতে পারেননি৷ মাত্র ৮১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে যখন অস্ট্রেলিয়া চরম বিপর্যয়ে, তখন দলকে উদ্ধার করেন মার্নাস লাবুশেন ও জেভিয়ার বার্টলেট৷ দুজনের সপ্তম উইকেট জুটিতে আসে ১১৫ বলে ১০৪ রান৷ লাবুশেন ৫১ ও বার্টলেট ৫২ রান করেন৷ তাদের এই জুটিতে দুই শ রানের সম্ভাবনা জাগলেও শেষ দিকে তাসকিনের আঘাতে সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়৷ ৪২ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ যখন ৮ উইকেটে ১৮৭ রান, তখন বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায়৷ পরে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে বাংলাদেশের নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয় ৪১ ওভারে ১৯২ রান৷

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ৷ ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই শূন্য রানে আউট হন ওপেনার তানজিদ হাসান৷ তবে শুরুর সেই ধাক্কা সামলে সৌম্য সরকার ও নাজমুল হোসেন শান্ত দলকে বিপদ থেকে টেনে তোলেন৷ তাদের দায়িত্বশীল জুটিতে বাংলাদেশ দ্রুত দলীয় পঞ্চাশ রান পার করে৷ সৌম্য সরকার ৪৯ রানের মাথায় আউট হয়ে ফিফটি মিস করেন এবং ৪২ রান করে বিদায় নেন নাজমুল হোসেন শান্তও৷ কিছুক্ষণ পর লিটন দাস ২১ রান করে ফিরে গেলে কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশ৷

তবে পঞ্চম উইকেটে তাওহিদ হৃদয় ও মেহেদী হাসান মিরাজ হাল ধরেন৷ ৩২ ওভার শেষে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৫৪ বলে ২৯ রান৷ সেই অবস্থান থেকে ম্যাচের ৩৪তম ওভারে নাথান এলিসের একটি বাউন্সার বল মিরাজের মাথায় আঘাত হানে৷ গুরুতর আঘাতের কারণে কিছুক্ষণ মাঠে চিকিৎসা নিতে হয় তাঁকে, এমনকি মাঠে স্ট্রেচারও আনা হয়েছিল৷ তবে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সাহসিকতার সাথে আবার ব্যাটিংয়ে ফেরেন বাংলাদেশ অধিনায়ক৷ শেষ পর্যন্ত হৃদয় ও মিরাজের জুটিতেই ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ৷ ৫ উইকেট ও ৩৬ বল হাতে রেখেই লক্ষ্য অতিক্রম করে টাইগাররা৷ অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়ার সময় তাওহিদ হৃদয় ৪০* এবং মেহেদী হাসান মিরাজ ২২* রানে দাঁড়িয়ে ছিলেন৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *