ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর নিজেদের প্রথম ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের এক অসাধারণ গল্প লিখল দক্ষিণ কোরিয়া৷ চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে এক গোল হজম করার পর শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে এশিয়ার এই পরাশক্তি দলটি৷ গুয়াদালাহারার এস্তাদিও গুয়াদালাহারায় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে পুরো ৯০ মিনিট জুড়েই ছিল টানটান উত্তেজনা৷
প্রথমার্ধে আধিপত্য ও চেকদের চমক: ম্যাচের শুরু থেকেই মাঠের দখল ও আক্রমণে স্পষ্ট আধিপত্য ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার৷ দলীয় অধিনায়ক সন হিউং-মিনের ক্ষুরধার নেতৃত্বে একের পর এক আক্রমণে চেক রক্ষণভাগকে তটস্থ করে রাখে তারা৷ প্রথমার্ধে দক্ষিণ কোরিয়া একাধিক সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পায়নি৷ বিশেষ করে অধিনায়ক সনের পাঁচটি দুর্দান্ত প্রচেষ্টার মধ্যে সবচেয়ে ভালো সুযোগটি চমৎকার দক্ষতায় রুখে দেন চেক গোলরক্ষক মাতেই কোভার৷
ম্যাচের চিত্র যখন পুরোপুরি দক্ষিণ কোরিয়ার নিয়ন্ত্রণে, ঠিক তখনই কাউন্টার অ্যাটাক থেকে উল্টো গোল খেয়ে বসে তারা৷ ম্যাচের ৫৯তম মিনিটে ভ্লাদিমির কুফালের এক লম্বা থ্রো থেকে বক্সের ভেতরে চমৎকার পজিশনে উঠে আসেন চেক অধিনায়ক লাদিস্লাভ ক্রেইচি৷ তাঁর শক্তিশালী হেডে লিড নেয় ইউরোপের প্রতিনিধিরা৷ উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, পুরো ম্যাচে সেটিই ছিল চেক প্রজাতন্ত্রের প্রথম অন-টার্গেট শট৷
টানা ২৫ পাসের রেকর্ড গোল: পিছিয়ে পড়ার পর দমে না গিয়ে আরও বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে দক্ষিণ কোরিয়া৷ ফলশ্রুতিতে ৬৭তম মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত সমতা৷ লি কাং-ইনের নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে চেক গোলরক্ষককে দারুণভাবে ধোঁকা দেন হোয়াং ইন-বম৷ গোলরক্ষক কোভার সামনে এগিয়ে আসতেই শট নেওয়ার ভান করে অসাধারণ দক্ষতায় বল তুলে দেন ফাঁকা জালে৷
এই গোলটি শুধু নান্দনিকতার দিক থেকেই নয়, পরিসংখ্যানের দিক থেকেও এক অনন্য ইতিহাস গড়েছে৷ গোলটি হওয়ার আগে দক্ষিণ কোরিয়ার খেলোয়াড়রা নিজেদের মধ্যে টানা ২৫টি পাস আদান-প্রদান করেছিলেন৷ ১৯৬৬ সালের পর থেকে বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে এটি যৌথভাবে পঞ্চম দীর্ঘতম পাসিং সিকোয়েন্স হিসেবে রেকর্ড বুকে জায়গা করে নিয়েছে৷
ও হিউন-গ্যুর জয়সূচক গোল ও কিমের বীরত্ব: সমতায় ফেরার পর জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে কোরিয়ানরা৷ যদিও ৭৮তম মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে চেক তারকা টমাস সউচেক বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে রেফারি গোল বাতিল করলে স্বস্তি ফেরে কোরিয়ান শিবিরে৷ সেই স্বস্তি খুব দ্রুতই উৎসবে রূপ নেয় ৮০তম মিনিটে৷ বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামা ফরোয়ার্ড ও হিউন-গ্যু ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেন৷ হোয়াং ইন-বমের বাড়ানো বল থেকে কাছাকাছি দূরত্বে সহজ ফিনিশিংয়ে জালে বল পাঠিয়ে দক্ষিণ কোরিয়াকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন বেসিকতাসের এই তারকা৷
ম্যাচের শেষ দিকে চেক প্রজাতন্ত্র সমতায় ফিরতে মরিয়া চেষ্টা চালালেও দক্ষিণ কোরিয়ার গোলকিপার কিম সেউং-গ্যু দেয়াল হয়ে দাঁড়ান৷ ৮২তম মিনিটে আদাম হ্লোজেকের নিশ্চিত গোল বাঁচানোর পর অতিরিক্ত সময়েও মিখাল সাদিলেকের শট রুখে দিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন তিনি৷ এই জয়ের মাধ্যমে টানা চারটি বিশ্বকাপ আসরের মধ্যে প্রথমবারের মতো নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে জয় পেল দক্ষিণ কোরিয়া৷
পরবর্তী ম্যাচের সমীকরণ: এই হারের পর চেক প্রজাতন্ত্র তাদের পরবর্তী ম্যাচে আগামী ১৮ জুন দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে৷ অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার সামনে অপেক্ষা করছে স্বাগতিক মেক্সিকোর কঠিন পরীক্ষা৷ আগামী ১৯ জুন তারা মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে, যারা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল৷
