আজ ১ জুলাই৷ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের পাতায় একটি নতুন ও প্রভাবশালী অধ্যায়ের সূচনালগ্ন৷ ঠিক দুই বছর আগের এই দিনে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে যে ক্ষুদ্র আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল, মাত্র ৩৬ দিনের ব্যবধানে তা রূপ নিয়েছিল সর্বব্যাপী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে৷ দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হওয়া সেই অভাবনীয় আন্দোলনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি আজ৷
আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও উত্থান: ২০২৪ সালের ৫ জুন হাইকোর্টের একটি রায়ের মাধ্যমে ২০১৮ সালের কোটা বাতিলের পরিপত্র অবৈধ ঘোষণার পর থেকেই মূলত নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দেশের শিক্ষাঙ্গন৷ ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ মোট ৫৬ শতাংশ কোটা পুনর্বহালের সেই রায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে৷ সুপ্রিম কোর্টে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল প্রক্রিয়া শুরু হলেও, শিক্ষার্থীরা সেই প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রাখতে না পেরে দ্রুত কোটা বাতিলের নির্বাহী আদেশের দাবিতে রাজপথে নামেন৷
১ জুলাইয়ের সেই দিনলিপি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী, জগন্নাথ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের শীর্ষ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ে কোটা পুনর্বহালবিরোধী বিক্ষোভ৷ ১ জুলাই সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ নামে নতুন ও ঐক্যবদ্ধ সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে৷ টিএসসির রাজু ভাস্কর্যে প্রথম বড় সমাবেশের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা ৪ জুলাই পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন৷ সেই শুরু— যা ক্রমে রূপ নিয়েছিল ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন জেলায় ধারাবাহিক কর্মসূচিতে৷
সহিংসতা থেকে চূড়ান্ত বিজয়: ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া শান্তিপূর্ণ এই আন্দোলন ১৫ জুলাই থেকে ভিন্ন মাত্রা পায় এবং ১৬ জুলাই থেকে প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে শুরু করে৷ দমন-পীড়নের সেই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে আন্দোলন দমানোর পরিবর্তে তা সারা দেশে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে৷ জুলাইয়ের শেষ দিকে এসে এই আন্দোলন কেবল কোটা সংস্কারের দাবিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি, তা সরাসরি সরকার পতনের একদফা দাবিতে রূপান্তরিত হয়৷ এরপর ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে সরকার পতনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ এই অস্থিরতা এবং বঞ্চনার অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটে৷
আজকের দিনে সেই অকুতোভয় শিক্ষার্থীদের ত্যাগ ও আত্মত্যাগের স্মৃতি দেশের প্রতিটি মানুষের মনে শিহরণ জাগায়৷ কোটা সংস্কারের সেই চার দফা দাবি এবং বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন ছাত্র-জনতা দেখেছিলেন, সেই দীর্ঘ পথপরিক্রমায় আজ দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে সেই অদম্য সাহসের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা৷
