ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষকৃত্য ও জানাজার নামাজে কোটি মানুষের ঐতিহাসিক জনসমাগমের ডাক দেওয়া হয়েছে৷ এই উপস্থিতির মাধ্যমে পশ্চিমা বিশ্ব ও শত্রুপক্ষকে ইরানি জাতির ‘কঠোর প্রতিশোধের’ দাবির বার্তা স্পষ্ট ভাষায় পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে৷
আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ইরানের পার্লামেন্টের প্রভাবশালী স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ তেহরানে এক বিশেষ বিবৃতিতে দেশের সাধারণ জনগণকে এই রাজকীয় শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান৷
শনিবার থেকে শেষকৃত্য, বিশ্বকে বার্তার হুংকার: পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন— “আমি ইরানের সর্বস্তরের বিপ্লবী জনগণকে উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা আগামী শনিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া আমাদের প্রিয় নেতার শেষকৃত্য ও বিদায়ী অনুষ্ঠানে দলে দলে অংশ নিয়ে ইরানের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় রচনা করুন৷”
গালিবাফ আরও যোগ করেন— “এই মহাসমাবেশের মাধ্যমে ইরানি জনগণকে আন্তর্জাতিক মহলে প্রমাণ করতে হবে যে, তারা কোনো ধরণের অন্যায়, কাপুরুষোচিত হত্যাকাণ্ড ও বিদেশি আগ্রাসনের সামনে কখনোই নীরব থাকবে না৷ আমরা আয়াতুল্লাহ খামেনির পবিত্র রক্তের কথা ভুলে যাইনি৷ আমাদের এই ঐক্যবদ্ধ জানাজা থেকে পুরো ইরানি জাতির প্রতিশোধের হুংকার যেন ওয়াশিংটন ও তেল আবিবসহ সমগ্র বিশ্বের কানে বজ্রকণ্ঠে পৌঁছে যায়৷” স্পিকারের মতে, এই শেষকৃত্য অনুষ্ঠান খামেনির আজীবন লালিত সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আদর্শ এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের মৌলিক মূল্যবোধের প্রতি জনগণের অবিচল আনুগত্য পুনর্ব্যক্ত করার সবচেয়ে বড় উপলক্ষ৷
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের সেই কালো দিন: উল্লেখ্য, ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি তেহরানে আকস্মিকভাবে শুরু হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের ত্রিমুখী ‘যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল’ ক্ষেপণাস্ত্র সংঘাতের প্রথম দিনেই নিহত হন৷ তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণে পুরো মুসলিম বিশ্ব ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হয়৷ ১৯৮৯ সালে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের জনক আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পবিত্র দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং দীর্ঘ প্রায় চার দশক ধরে দেশটির একক রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন৷ তাঁর এই জানাজাকে কেন্দ্র করে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি অঞ্চলে আবারও বড় ধরণের সামরিক উত্তেজনার রানিং আভাস পাচ্ছেন আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা৷
সূত্র : আল জাজিরা
