আমেরিকাই একমাত্র নয়, ভারত আমাদের পরম শক্তিশালী বন্ধু

বিশ্বের বুকে ইসরায়েলের একমাত্র শক্তিশালী ও অকৃত্রিম বন্ধু দেশ হলো কেবল আমেরিকা— মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের এমন একচেটিয়া দাবি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু৷ তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন— মার্কিন প্রশাসনের এই একক দাবি মোটেও সঠিক নয়৷ আমেরিকার বাইরেও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইসরায়েলের অনেক শক্তিশালী ও প্রভাবশালী বন্ধু রাষ্ট্র রয়েছে এবং তার মধ্যে অন্যতম প্রধান একটি দেশ হলো ভারত৷

ফক্স নিউজের সাক্ষাৎকারে ভারতকে আলাদা গুরুত্ব: গতকাল রোববার (৫ জুলাই) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া একটি বিশেষ এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক বিতর্কিত মন্তব্য প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এই কড়া রানিং প্রতিক্রিয়া জানান নেতানিয়াহু৷ সেখানে আমেরিকা বাদে শক্তিশালী বৈশ্বিক বন্ধু দেশ হিসেবে তিনি একমাত্র ভারতের নাম আলাদা করে এবং অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেন৷

সাক্ষাৎকারে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কিছুটা রসিকতার ছলে বলেন— ‘আমাদের বিশ্বজুড়ে আরো অনেক অকৃত্রিম বন্ধু আছে৷ যেমন— ভারত নামের একটি ছোট দেশ, যাদের বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ১৪০ কোটি৷ আমরা আন্তর্জাতিক যেকোনো সংকটে সেই ভারত থেকে সবসময় অভূতপূর্ব কৌশলগত ও নৈতিক সমর্থন পাই৷’ তিনি আরো জানান— মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সকে ব্যক্তিগতভাবে তিনি যথেষ্ট শ্রদ্ধা করলেও তাঁর এই সব কথা বা একপেশে নীতি মেনে নিতে পারছেন না৷ তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তিনি এ যাবৎকালের ‘সবচেয়ে ভালো বন্ধু’ বলে পুনরায় অকপটে স্বীকার করেছেন৷ নেতানিয়াহু যোগ করেন— ভারত থেকে আসা এই অভূতপূর্ব সমর্থনের ব্যাপক প্রতিফলন ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যায়, যা তাকে ব্যক্তিগতভাবে বেশ অভিভূত করেছে৷ বিশ্বের অনেক দেশে সামাজিক মাধ্যমে ইসরায়েল-বিরোধিতা এখন এক ধরণের ‘ফ্যাশনে’ পরিণত হলেও পর্দার আড়ালে ওই সব দেশের নেতারাই আবার ফোন করে ইসরায়েলের নীতিকে সরাসরি সমর্থন জানিয়েছেন৷

হোয়াইট হাউস সফর ও ট্রাম্পের সাথে দূরত্বের রানিং প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য— ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক হাত মিলিয়ে গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে এক যৌথ ভয়াবহ বিমান আক্রমণ করেছিল আমেরিকা৷ ওই সুনির্দিষ্ট হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির আকস্মিক মৃত্যু হয় এবং এর পরেই সমগ্র পশ্চিম এশিয়া জুড়ে এক রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও অস্থিরতা শুরু হয়৷ বর্তমানে কূটনৈতিক মধ্যস্থতায় আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলছে৷ তবে ইরানের দেওয়া অন্যতম প্রধান শর্ত হলো লেবাননে ইসরায়েলের রানিং আগ্রাসন ও হামলা অনতিবিলম্বে বন্ধ করা৷ লেবাননে ইরান সমর্থিত প্রতিরোধ গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে চরম রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে ইসরায়েলি বাহিনী৷ ইসরায়েলের এই অনমনীয় আগ্রাসী নীতি মূলত আমেরিকা-ইরানের স্থায়ী সমঝোতার পথে অন্যতম প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ লেবাননে বারবার রক্তক্ষয়ী হামলার জন্য কিছুদিন আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধবাজ’ প্রধানমন্ত্রী বলে আখ্যা দিয়েছিলেন৷

আমেরিকার এমন প্রকাশ্য কড়া সমালোচনার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কে কিছুটা শীতলতা ও অবনতি লক্ষ্য করা যায়৷ এই জটিল পরিস্থিতির মধ্যেই গত শুক্রবার ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি ফোনে কথা বলেন নেতানিয়াহু৷ দুই নেতার বরফ গলা রানিং আলোচনার সূত্র ধরে আগামী সপ্তাহে নেতানিয়াহু ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সশরীরে হাই-লেভেল বৈঠকে বসতে পারেন বলে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে৷

সূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *