নড়াইলে মধ্যরাতে ঘরের ওপর উল্টে পড়ল পাথরবোঝাই ট্রাক

নড়াইলের লোহাগড়ায় গভীর রাতের আঁধারে রাস্তার পাশে থাকা একটি বসতঘরের ওপর পাথরবোঝাই দ্রুতগামী ডাম্পট্রাক উল্টে পড়ে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে৷ আজ সোমবার (৬ জুলাই) রাত সাড়ে ১২টার দিকে লোহাগড়া থানার নলদী খালপাড়া এলাকায় এই হাড়হিম করা সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটে৷ প্রলয়ংকরী এই দুর্ঘটনায় ঘরে ঘুমিয়ে থাকা মৃত শিশুর আপন বড় বোনও গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে৷

দুর্ঘটনার বিবরণ ও হতাহতদের পরিচয়: পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে— নিহত শিশুর নাম মিতু খানম (১৩) এবং গুরুতর আহত বড় বোনের নাম শামিমা আক্তার সেতু (১৬)৷ তারা লোহাগড়া উপজেলার নলদী খালপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হাফিজার মোল্লার মেয়ে৷

স্থানীয়রা জানান— গভীর রাতে মিতু ও সেতু তাদের টিনের তৈরি ঘরে একসাথে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিল৷ এমন সময় যশোর-নড়াইল আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে আসা একটি দ্রুতগামী পাথরবোঝাই ডাম্পট্রাক হঠাৎ ব্রেক ফেল করে বা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে থাকা হাফিজার মোল্লার টিনের ঘরের ওপর সরাসরি উল্টে পড়ে৷ ভারী ট্রাক ও পাথরের বিশাল চাপে মুহূর্তেই টিনের ঘরটি দুমড়েমুচড়ে মাটির সাথে মিশে যায় এবং দুই বোন ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হয়৷

বিকট শব্দ শুনে আসেপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে এসে উদ্ধার কাজ শুরু করেন এবং ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে দুই বোনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে নিয়ে যান৷ তবে সেখানে কর্তব্যরত জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ১৩ বছরের শিশু মিতু খানমকে মৃত ঘোষণা করেন৷ গুরুতর আহত সেতুকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালের রানিং আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে৷

পুলিশের রানিং বক্তব্য ও আইনি ব্যবস্থা: এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ. রহমান আজ সকালে সাংবাদিকদের জানান— দুর্ঘটনার খবর পেয়ে লোহাগড়া থানা পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে৷ দুর্ঘটনার ঠিক পর পরই ট্রাক ফেলে চালক ও হেলপার কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান৷ ঘাতক পাথরবোঝাই ডাম্পট্রাকটি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে৷ এ বিষয়ে থানায় একটি নিয়মিত সড়ক পরিবহন আইনে মামলার রানিং প্রস্তুতি চলছে৷ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহত মিতুর লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে৷ ঘুমের ঘোরে এমন আকস্মিক ও করুণ মৃত্যুর ঘটনায় পুরো নলদী খালপাড়া এলাকায় এক গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *