চলমান এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনেই পরীক্ষার্থীদের ভুল সিলেবাসের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার মতো গুরুতর ও চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গাইবান্ধার ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের সচিব তথা কলেজের অধ্যক্ষসহ ৮ জন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অনতিবিলম্বে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড৷ আজ সোমবার (৬ জুলাই) গাইবান্ধা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই শাস্তিমূলক রানিং ব্যবস্থার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে৷
ভুল প্রশ্নপত্র ও পরীক্ষার্থীদের তুমুল বিক্ষোভ: সংশ্লিষ্ট স্থানীয় ও কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে— গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রথম দিনে বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়৷ ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা চলাকালীন হল কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতিতে প্রায় অর্ধশত পরীক্ষার্থীর নিয়মিত ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত সিলেবাসের প্রশ্ন এবং অনিয়মিত ব্যাচের পরীক্ষার্থীদের নিয়মিত সিলেবাসের প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়৷
পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর পরীক্ষার্থীরা যখন বিষয়টি বুঝতে পারে, তখন তাদের রানিং ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তা ও ক্ষোভ তৈরি হয়৷ সংক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিক কেন্দ্রের মূল ফটকে অবস্থান নিয়ে কলেজের অধ্যক্ষ মো. এস এম আসাদুল ইসলামের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও তুমুল বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন৷ পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অধ্যক্ষ মো. এস এম আসাদুল ইসলাম নিজেই দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে জরুরি আলাপ করেন এবং ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিলেও খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের ফলাফলে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে শান্ত করেন৷
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের কঠোর অ্যাকশন: পরীক্ষার্থীদের খাতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন নজিরবিহীন খামখেয়ালিপনার খবর দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে পৌঁছালে বোর্ড কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক তদন্ত শুরু করে৷ ঘটনার সত্যতা মেলায় আজ দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট দুই পরীক্ষা হলের দায়িত্বে থাকা ৬ জন হল পরিদর্শক (ইনভিজিলেটর), ফুলছড়ি উপজেলার সমাজসেবা কর্মকর্তা ও কেন্দ্রের সরকারি ট্যাগ অফিসার মনোয়ার হোসেন এবং কেন্দ্র সচিব ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. এস এম আসাদুল ইসলামসহ মোট ৮ জনকে কারণ দর্শানোসহ (শো-কজ) চলমান সমস্ত পরীক্ষার রানিং দায়িত্ব থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি প্রদান করা হয়৷
এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা আজ সাংবাদিকদের জানান— ফুলছড়ি পরীক্ষা কেন্দ্রের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট ৮ জনকেই তাদের রানিং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব থেকে পুরোপুরি অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে৷ কেন্দ্রের শৃঙ্খলা ও পরবর্তী পরীক্ষাগুলো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নতুন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ পরীক্ষার্থীদের আর কোনো ভোগান্তি বা পরীক্ষা ভীতি তৈরি না হয়৷
