কুয়েতে অবস্থিত দুটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে বড় পরিসরে একযোগে মারাত্মক ও ধ্বংসাত্মক ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী৷ আজ রোববার (১৯ জুলাই) ইরানের সেনাবাহিনী স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই চাঞ্চল্যকর ও বিধ্বংসী সামরিক অভিযানের তথ্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে৷ এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে এক চরম যুদ্ধ ও সামরিক উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে৷
হামলার সুনির্দিষ্ট বিবরণ ও ক্ষয়ক্ষতি: ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে (IRIB) আজ দুপুরে দেওয়া এক বিশেষ লাইভ বিবৃতিতে ইরানের সেনাবাহিনী জানায়— তাদের তৈরি অত্যাধুনিক ‘বিধ্বংসী ড্রোনগুলো’ কুয়েতের মরুভূমিতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ‘ক্যাম্প আল আদিরি’র (Camp Al-Adiri) একটি প্রধান গোলাবারুদের ডিপোতে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে, যার ফলে সেখানে ধারাবাহিক ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে৷ সেই সঙ্গে মার্কিন বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা অপর কৌশলগত ঘাঁটি ‘আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি’র (Ali Al Salem Air Base) মার্কিন প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং মূল আকাশ প্রতিরক্ষা রাডারেও একযোগে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে৷ ইরানি সেনাবাহিনীর দাবি— এই আত্মঘাতী ড্রোন হামলায় মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রাডার নেটওয়ার্কটি সম্পূর্ণ অচল ও লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে৷
কমান্ডারের চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি ও ভূ-রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: এদিকে এই সফল ড্রোন হামলার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এক বিধ্বংসী ও চরম জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের প্রধান কমান্ডার মেজর জেনারেল আলি আবদুল্লাহি৷ তিনি এক কড়া বার্তা জারি করে ওয়াশিংটন ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের সতর্ক করে বলেছেন— ‘ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের বিদেশি সামরিক আগ্রাসন বা বর্বরোচিত আচরণের বিরুদ্ধে তেহরানের পক্ষ থেকে এটি কেবল একটি প্রাথমিক সতর্কবার্তা ছিল৷ ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের ধৃষ্টতা বা বর্বরোচিত পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী চূড়ান্ত, নজিরবিহীন ও বিধ্বংসী পাল্টা জবাব দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে৷’
আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মতে— কুয়েতের মতো সুরক্ষিত ও কৌশলগত অবস্থানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের এই সরাসরি বিমান হামলা বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল৷ এই ড্রোন হামলার পর কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনে মোতায়েন থাকা মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (CENTCOM) সমস্ত ঘাঁটিতে সর্বোচ্চ যুদ্ধ সতর্কতা জারি করা হয়েছে৷ তেহরানের এই সামরিক পদক্ষেপের ফলে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক পণ্যবাহী জাহাজ ও জ্বালানি তেল পরিবহন রুটে চরম অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা৷
সূত্র: আলজাজিরা
