পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশপুরে একটি দলীয় ও প্রশাসনিক কর্মসূচিতে যাওয়ার পথে প্রচণ্ড দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মুখে পড়েছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে বহনকারী বিশেষ হেলিকপ্টারটি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার স্বার্থে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাইলট কোলাঘাটে উড়োজাহাজটির জরুরি অবতরণ করান।
প্রশাসন সূত্রে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘এবিপি আনন্দ’ জানিয়েছে, সময়মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণে কোনো অঘটন ঘটেনি এবং মুখ্যমন্ত্রীসহ প্রতিনিধি দলের সবাই সম্পূর্ণ নিরাপদ ও অক্ষত রয়েছেন।
কলকাতা বিমানবন্দর (দমদম) থেকে হেলিকপ্টারে করে কেশপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে কোলাঘাটে জরুরি অবতরণের পর তিনি কোনো সময় নষ্ট না করে সড়কপথেই কেশপুরের নির্ধারিত জনসভাস্থলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। এর ফলে দলীয় কর্মসূচিতে পৌঁছাতে তাঁর নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কিছুটা দেরি হয়।
কেশপুরে পৌঁছে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অবতরণের বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, “প্রচণ্ড বৈরী আবহাওয়া ও দুর্যোগের কারণে কোলাঘাটে জরুরি অবতরণ করতে হয়েছে। তবে কেশপুরের মানুষের কাছে আসাটা আমার জরুরি ছিল, তাই প্রতিকূলতা অতিক্রম করেই কিছুটা দেরিতে হলেও অনুষ্ঠানে পৌঁছেছি।”
মঞ্চ থেকে বক্তব্য দেওয়ার সময় পুরোনো একটি রাজনৈক মামলার প্রসঙ্গ টেনে কড়া হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ২০২৪ সালে কেশপুরে তাঁকে রাজনৈতিক সভা করতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। উক্ত ঘটনায় জড়িতদের উদ্দেশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপারকে (এসপি) মামলাটির পুনঃতদন্ত ও কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দেন এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির মুখোমুখি করার কথা বলেন।
একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ‘মোদি জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেওয়ায় অতীতে অনেক নেতা-কর্মীকে পুলিশি হয়রানি ও অত্যাচারের শিকার হতে হয়েছে। এ ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলো দ্রুত প্রত্যাহারের জন্য পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেন তিনি।
এছাড়া, এলাকার উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় জোর দিয়ে মোহবনী উন্নয়ন পর্ষদের জন্য প্রাথমিকভাবে ৫ কোটি টাকা বিশেষ তহবিল বরাদ্দের ঘোষণা দেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। পর্ষদ গঠিত হলেও কাঙ্ক্ষিত গতি পায়নি স্বীকার করে তিনি জানান, কাঠামোগত উন্নয়ন ও কাজ গুছিয়ে আনতে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সূত্র : এবিপি আনন্দ
