ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ১৩তম দিনে পা রাখল। প্রায় দুই সপ্তাহের এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ইরানে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৭০০ ছাড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন সহস্রাধিক মানুষ। তবে যুদ্ধের তীব্রতা কমার কোনো লক্ষণ তো নেই-ই, বরং ইরান এবার হুমকি দিয়েছে যে এই সংঘাত ‘শিগগিরই নতুন পর্যায়ে’ প্রবেশ করতে যাচ্ছে।
ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই সতর্কবার্তা দেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, তেহরান তাদের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করছে। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক তথ্য হিসেবে তিনি বলেন, “হরমুজ প্রণালির পর শিগগিরই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নৌ-পথ বা প্রণালির পরিণতিও একই রকম হবে।” যদিও তিনি নির্দিষ্ট করে সেই প্রণালির নাম উল্লেখ করেননি।
’
ওই কর্মকর্তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি হামলার ধারাবাহিকতা বজায় রাখে তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে। তিনি দাবি করেন, “আমাদের হাতে এখনও খেলার মতো অনেক তাস বাকি রয়েছে।” এর মাধ্যমে ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ বা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক রুটগুলোতে আরও বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটাতে সক্ষম।
গত কয়েক দিন ধরে ইরানের বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনায় মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। বিপরীতে ইরানও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে পাল্টা জবাব দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরান যদি হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি লোহিত সাগর বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ জলপথ সম্পূর্ণ অচল করে দেয়, তবে বিশ্ব অর্থনীতিতে চরম বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।
