কুয়েতে ইরানি হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য গোপন করেছে যুক্তরাষ্ট্র; নিহতের পাশাপাশি পঙ্গুত্বের পথে অনেক সেনা

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে চালানো ড্রোন হামলায় ক্ষয়ক্ষতির যে তথ্য পেন্টাগন দিয়েছিল, প্রকৃত চিত্র তার চেয়ে অনেক বেশি ভয়াবহ। সিবিএস নিউজের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সেদিনের হামলায় ৬ মার্কিন সেনা নিহতের পাশাপাশি কয়েক ডজন সৈন্য গুরুতর আহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং অন্তত একজনের অঙ্গহানির সম্ভাবনা রয়েছে।

সূত্র মতে, গত ১ মার্চ কুয়েত সিটির উপকণ্ঠে শুইবা বন্দরের একটি ট্যাকটিক্যাল অপারেশন সেন্টারে ইরান এই বিধ্বংসী ড্রোন হামলা চালায়। হামলার পর পুরো ভবন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ায় ভেতরে থাকা সৈন্যদের উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে দগ্ধ হওয়া ছাড়াও মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত এবং উড়ে আসা ধাতব খণ্ডের (শ্যাপ্রেল) আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হন সেনাসদস্যরা।

হামলার পরপরই মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর মাত্র ৫ জন গুরুতর আহতের কথা জানালেও রয়টার্স ও সিবিএস নিউজের চাপে পরে তারা সত্য স্বীকার করতে বাধ্য হয়। মঙ্গলবার পেন্টাগন মুখপাত্র শন পারনেল জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৪০ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। তবে তিনি দাবি করেন, আহতদের ১০৮ জনই সুস্থ হয়ে কাজে ফিরেছেন এবং মাত্র ৮ জন গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩৫ জনের বেশি সৈন্য বর্তমানে বিভিন্ন দেশের উন্নত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে ২৫ জন জার্মানির ল্যান্ডস্টুল রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে, ১২ জন ওয়াশিংটনের ওয়ালটার রিড সেন্টারে এবং ১ জন সান অ্যান্টোনিয়োর ব্রুক আর্মি মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি আছেন। জার্মানির হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সৈন্যদের ‘ইমারজেন্সি রোগী’ হিসেবে নিবন্ধিত করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *