নিজস্ব প্রতিবেদক
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া গণআন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তৎকালীন সরকার পতনের পর দেশজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময়ের পর থেকে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার অভিযান এবং সামাজিক সহিংসতার অভিযোগ সামনে আসে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেকেই দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।
এই প্রেক্ষাপটে কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাহী সদস্য আবুল বসার বিশ্বাস নিজেকে প্রতিহিংসার শিকার বলে দাবি করেছেন। তিনি এর আগে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সহায়তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একাধিকবার তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালালেও তিনি এখনো আটক হননি।
সূত্রগুলো আরও দাবি করে, আবুল বসার বিশ্বাসকে না পেয়ে তার পরিবারের সদস্যদের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এতে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এলাকাতেও এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে মামলা ও গ্রেপ্তারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তারা বলছে, মতপ্রকাশ ও রাজনৈতিক ভিন্নমতের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
এ বিষয়ে আবুল বসার বিশ্বাস দাবি করেন, সরকার পতনের পর সারাদেশে যে সহিংস পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার ধারাবাহিকতায় তিনি ও তার পরিবার নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। তিনি বলেন, “আমি দেশ ছাড়তে পারলেও আমার পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগে আছি।”
নিজের রাজনৈতিক জীবনের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন রাজনীতি করলেও ক্ষমতার অপব্যবহার বা সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের কোনো অভিযোগ কেউ প্রমাণ করতে পারবে না।
