১৭ বছর নির্বাসনের পর দেশে ফিরে তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করাই এখন তার প্রধান দায়িত্ব। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম TIME-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা, সংস্কার এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন।
২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান ঢাকায় ফেরেন। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাতে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হয়। ফেরার কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি হারান তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দায়িত্ববোধই তাকে সামনে এগিয়ে যেতে প্রেরণা দিচ্ছে।
টাইমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানকে সম্ভাব্য ফ্রন্ট-রানার হিসেবে দেখা হচ্ছে। জনমত জরিপে তার নেতৃত্বাধীন বিএনপি এগিয়ে রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বর্তমান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, দুর্বল মুদ্রা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট এবং যুব বেকারত্ব। এসব সমস্যার সমাধানে তারেক রহমান অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে সংস্কারের কথা বলেন।
তার পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে খাল খনন, ব্যাপক বৃক্ষরোপণ, নগর সবুজায়ন, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণ। তিনি বলেন, পরিকল্পনার একটি অংশ বাস্তবায়ন করতেও পারলে জনগণের আস্থা অর্জন সম্ভব।
তবে প্রতিবেদনে তারেক রহমানের অতীত বিতর্কও তুলে ধরা হয়েছে। বিএনপির আগের শাসনামলে দুর্নীতির অভিযোগ, তার বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো এবং রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়ে সমালোচনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তারেক রহমান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসর বদলেছে। একই সঙ্গে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক সংস্কার নিয়ে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
সাক্ষাৎকারের শেষদিকে তারেক রহমান বলেন, জনগণের ঐক্য ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ার মাধ্যমেই বাংলাদেশ সামনে এগোতে পারে। রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করাই তার লক্ষ্য।
