ইরান যুদ্ধে না জড়ানোয় চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন ট্রাম্প, সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত হওয়ায় থমকে গেল পরবর্তী আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান চরম ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা নিরসনে এক ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরের ঠিক পরদিনই বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন নাটকীয়তার সৃষ্টি হয়েছে৷ ইরানের সাথে চলমান উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বেইজিং কোনো ধরনের সামরিক বা কূটনৈতিক সংঘাতে না জড়ানোয় চীনের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ ট্রাম্পের দাবি, তিনি নিজে ব্যক্তিগতভাবে চীনকে এই দ্বিপক্ষীয় সংসাধ্য ও সংঘাতে অংশ না নেওয়ার জন্য বিশেষ অনুরোধ করেছিলেন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাঁর সেই অনুরোধ গুরুত্বের সাথে রক্ষা করেছেন৷

গতকাল শুক্রবার (১৯ জুন) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেইজিং ও ওয়াশিংটনের এই গোপন কূটনৈতিক বোঝাপড়ার বিষয়টি প্রকাশ করেন৷ ট্রাম্প বলেন, “আমি চীনের নেতৃত্বকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই, কারণ আমি তাদের ইরানের বিষয়ে কোনোভাবে জড়িত না হতে বলেছিলাম এবং তারা আমাদের অনুরোধ রেখেছে৷”

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চীনের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল আমদানির প্রসঙ্গটি টেনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “চীনের মোট আমদানিকৃত জ্বালানি তেলের প্রায় ৫০ শতাংশ তেল এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের মাধ্যমেই বেইজিংয়ে প্রবেশ করে৷ স্বাভাবিকভাবেই এই অঞ্চলে যেকোনো যুদ্ধ বা অস্থিরতা চীনের অর্থনীতির জন্য বড় ধাক্কা হতে পারত৷ কিন্তু এরপরও বেইজিং এই সংঘাতে কোনো ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপ বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড থেকে পুরোপুরি বিরত থেকেছে৷”

ট্রাম্প আরও যোগ করেন, “চীন তাদের ৫০ শতাংশ জ্বালানি তেল হরমুজ প্রণালি থেকে পায়, যা তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ কিন্তু আমি স্বয়ং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে বলেছিলাম যেন তারা এতে জড়িত না হয়৷ তিনি আমার কথা খুব সুন্দরভাবে গ্রহণ করেছিলেন এবং বলেছিলেন যে তারা জড়াবেন না এবং তারা সত্যিই এতে জড়াননি৷ আমি এর জন্য তাঁর প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ৷”

এদিকে, ট্রাম্পের এই ইতিবাচক বার্তার মধ্যেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরবর্তী দফার সরাসরি শান্তি আলোচনা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে৷ যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পূর্বনির্ধারিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুইজারল্যান্ড সফর আকস্মিকভাবে পিছিয়ে যাওয়ার পর এই স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷ হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, অনিবার্য কারণবশত ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স এই মুহূর্তে শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন না৷

উল্লেখ্য, এই ঘোষণার ঠিক একদিন আগেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের মধ্যকার দীর্ঘদিনের চলমান উত্তেজনা চিরতরে নিরসনের লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেছিল৷ ওই চুক্তিরই প্রথম সফল ধাপ বা অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সব সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় আরোপিত নৌ-অবরোধ পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নিয়েছে৷ তবে চুক্তি পরবর্তী সরাসরি সংলাপ স্থগিত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের এই শান্তি প্রক্রিয়া নতুন কোনো জটিলতায় রূপ নেয় কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে এখন চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে৷

সূত্র : আল জাজিরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *