জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ‘লেথাল ওয়েপন’ (মারাত্মক অস্ত্র) ব্যবহার করে সরাসরি গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ রোববার (১০ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম এই বিস্ফোরক তথ্য জানান।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, তদন্তে শেখ হাসিনা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের তৎকালীন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের মধ্যকার একটি কথোপকথন উঠে এসেছে। যেখানে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, “আমার নির্দেশনা দেওয়া আছে, ওপেন নির্দেশনা দিয়ে দিছি। এখন লেথাল ওয়েপন ব্যবহার করবে, যেখানে পাবে সোজা গুলি করবে।” একজন সরকার প্রধানের এমন নির্দেশনাকে ‘অমানবিক ও ভয়াবহ’ হিসেবে অভিহিত করে আমিনুল ইসলাম বলেন, এর ফলেই সারাদেশে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর প্রবণতা বেড়ে যায় এবং হাজারো মানুষের মৃত্যু ঘটে।
এদিন রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুর এলাকায় ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে নির্বিচারে গুলি চালানো হয়েছিল। এই অভিযানে শিশু ফাইয়াজকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনাটি পুরো বাংলাদেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল।
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, মোহাম্মদপুরের এই মামলায় ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’, ‘ইন্ডিভিজুয়াল রেসপনসিবিলিটি’ এবং ‘টার্গেটেড কিলিং’-এর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণ পাওয়া গেছে। আদালত অভিযোগ গঠন করেছেন এবং আগামী ৮ জুন থেকে এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করার দিন ধার্য করা হয়েছে।
বিচারের এই প্রক্রিয়াটি ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
