দেশে অবৈধভাবে পরিচালিত ১১৬টি অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপস বন্ধের জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি) তালিকা পাঠিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। একই সঙ্গে দৈনিক দুই কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নেওয়া একটি চক্রের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ রোববার (১৭ মে) সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান সিআইডি প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ।
সিআইডি প্রধান বলেন, অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে সিআইডির সাইবার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ইউনিট নিয়মিত মনিটরিং করে আসছে। গত ১ মে থেকে আজ পর্যন্ত সাইবার প্যাট্রলিংয়ের মাধ্যমে জুয়ার সঙ্গে জড়িত ওয়েবসাইটগুলো শনাক্ত করা হয়েছে। এরপর সেগুলো ডাউন করার জন্য ১১৬টি সাইটের তালিকা বিটিআরসিতে পাঠানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, অনলাইন জুয়ার লেনদেনে ব্যবহৃত হচ্ছে এমন ৮৭৯টি মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট (বিকাশ/রকেট/নগদ) এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের ৪৩টি অ্যাকাউন্ট বন্ধ ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগকে (বিএফআইইউ) অনুরোধ জানিয়েছে সিআইডি।
সিআইডি জানায়, গত ৬ মে ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জ থেকে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল শনিবার (১৬ মে) নরসিংদীর পলাশ ও রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— কিশোরগঞ্জের আশরাফ উদ্দীন আহম্মেদ, সজীব চক্রবর্তী ও আশরাফুল ইসলাম, ময়মনসিংহের জসীম উদ্দীন, নরসিংদীর তৈয়ব খান ও সৌমিক সাহা, লক্ষ্মীপুরের কামরুজ্জামান এবং কিশোরগঞ্জের আব্দুর রহমান। সিআইডি জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে কিশোরগঞ্জের প্রথম দুজন একটি নামী মোবাইল ব্যাংকিং কোম্পানির ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। তারা চারটি সাইট পরিচালনার মাধ্যমে প্রতিদিন ২ কোটি টাকারও বেশি হাতিয়ে নিত এবং সেই টাকা হুন্ডি ও ক্রিপ্টোকারেন্সির (Crypto Wallet) মাধ্যমে বিদেশে পাচার করত। এই চক্রের বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্টন থানায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে সিআইডি, বিএফআইইউ এবং আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চক্রটির আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ও সংশ্লিষ্ট ক্রিপ্টো ওয়ালেট শনাক্তের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”
