আজ পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা

আজ বুধবার (১২ আগস্ট) পরম ধর্মীয় গাম্ভীর্য, মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা। হিজরি সফর মাসের শেষ বুধবারে বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) দীর্ঘ রোগভোগের পর সাময়িকভাবে সুস্থতাবোধ করেছিলেন। এই ঐতিহাসিক দিনটি বাংলাদেশসহ গোটা মুসলিম বিশ্বে অত্যন্ত মর্যাদা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করা হয়ে থাকে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:

ইসলামিক ইতিহাস অনুযায়ী, ২৩ হিজরির শুরুর দিকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। দিন দিন তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তিনি মসজিদে নববিতে নামাজের ইমামতি পর্যন্ত করতে পারছিলেন না। অবশেষে ২৮ সফর বুধবার তিনি অলৌকিক ও আশ্চর্যজনকভাবে কিছুটা সুস্থ বোধ করেন।

ঐতিহাসিক সেই দিনে প্রিয় নবী (সা.) শেষবারের মতো গোসল সম্পন্ন করে মসজিদে গিয়ে নামাজে ইমামতি করেন। তাঁর এই সুস্থতার সুসংবাদ শুনে সাহাবিদের মাঝে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। খুশিতে উদ্বেলিত হয়ে সাহাবিরা অকাতরে হাজার হাজার স্বর্ণমুদ্রা ও উট দান করেন। তবে মহানবী (সা.)-এর এই সুস্থতা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি; এর পরদিন থেকেই তিনি পুনরায় অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং মাত্র ১৫ দিন পর ১২ রবিউল আউয়ালে পাপনীয় এই ধরা ধাম ত্যাগ করে ইন্তেকাল করেন।

দিনের তাৎপর্য ও ছুটির খবর:

ফারসি শব্দগুচ্ছ ‘আখেরি চাহার সোম্বা’-এর অর্থ হলো ‘শেষ বুধবার’। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এই সাময়িক সুস্থতায় সাহাবিরা যেভাবে আনন্দ প্রকাশ করে দান-ছদকা করেছিলেন, তা অনুসরণ করে বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা এই দিনে নফল ইবাদত-বন্দেগি, মিলাদ, জিকির-আজকার এবং গরিব-দুস্থদের মাঝে অকাতরে দান-খয়রাত করে থাকেন।

পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা উপলক্ষে আজ বুধবার সারা দেশের সব স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ দোয়া ও আলোচনা সভার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *