‘আমাকে মারলে ইরানকে বোমায় উড়িয়ে দেব’: তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার চরম হুঁশিয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক অত্যন্ত বিস্ফোরক মন্তব্যে জানিয়েছেন— ইরান যদি তাঁকে কোনোভাবে হত্যা করে, তাহলে তেহরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন ও প্রলয়ঙ্কারী সামরিক হামলা চালানোর বিশেষ ও অগ্রিম নির্দেশ তিনি আগেই মার্কিন সামরিক বাহিনীকে দিয়ে রেখেছেন৷ যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউইয়র্ক পোস্ট’-কে দেওয়া এক বিশেষ ও একান্ত সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সরাসরি এই কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন৷ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেন— “আমি অনেক দিন ধরেই ওদের হিটলিস্টে বা লক্ষ্যবস্তুতে আছি৷ যদি আমার কোনো ক্ষতি হয়ে যায়, তাহলে আক্ষরিক অর্থেই ইরানের ওপর এমন প্রলয়ঙ্কারী মাত্রায় বোমাবর্ষণ করা হবে, যা তারা বিশ্ব ইতিহাসে আগে কখনো দেখেনি৷”

ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্য ও সোলাইমানি প্রসঙ্গ: সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েল কর্তৃক মার্কিন প্রশাসনকে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার একটি কথিত ইরানি চক্রান্ত ও গভীর ষড়যন্ত্রের গোপন গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প সেটিকে নতুন কিছু নয় বলে উড়িয়ে দেন৷ তিনি বলেন— “না, ইসরায়েল আসলে নতুন বিশেষ কিছু পায়নি৷ আমি দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের প্রধান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে আছি৷” সাক্ষাৎকারটি শেষ করার সময় কিছুটা রসিকতার সুরে ট্রাম্প আরও যোগ করেন— “ইরান যদি সত্যিই আমাকে হত্যা করতে সফল হয়, তাহলে আশা করি মার্কিন জনগণ ও আপনারা সাংবাদিকরা আমাকে খুব মিস করবেন৷”

ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন— ২০২০ সালে ইরাকের বাগদাদে মার্কিন বিমান ও ড্রোন হামলায় ইরানের কুদস ফোর্সের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্পকে লক্ষ্যবস্তু করার ও এর চরম প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছে তেহরান৷ এর মধ্যে গত ২০২৪ সালের ১৩ জুলাই পেনসিলভানিয়ার বাটলারে এক নির্বাচনী জনসভায় ট্রাম্পের ওপর সরাসরি বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটে, যেখানে একটি বুলেট তাঁর কান ঘেঁষে চলে যায়৷ এরপর আরও কয়েকটি কথিত আন্তর্জাতিক হত্যাচেষ্টা অত্যন্ত সফলভাবে প্রতিহত করার দাবি করেছে মার্কিন গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ৷

যুদ্ধ ও রানিং কূটনৈতিক তৎপরতা: এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তাঁর জানাজায় অংশ নেওয়া লাখ লাখ শিয়া বিক্ষোভকারীদের হাতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী প্রতিশোধের আহ্বানসংবলিত বড় বড় ব্যানার দেখা গেছে৷ বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম লাইফলাইন হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে উপর্যুপরি ড্রোন হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বর্তমানে তুঙ্গে রয়েছে৷ ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে ইরানের সাথে পূর্বের হওয়া সমস্ত যুদ্ধবিরতি চুক্তি ও প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক (MoU) সম্পূর্ণ বাতিলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে এবং ইরানি অপরিশোধিত তেল বিক্রির ওপর দেওয়া ছাড়ও পুরোপুরি প্রত্যাহার করেছে৷ এর পরপরই মার্কিন বিমান বাহিনী ইরানের প্রায় ২০০টি কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে একযোগে ভারী ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমাবর্ষণ করে৷

তবে এত উত্তেজনার মাঝেই গতকাল শুক্রবার ট্রাম্প আকস্মিক জানান— তেহরান প্রশাসনের পক্ষ থেকে রানিং কূটনৈতিক স্তরে আলোচনার গভীর আগ্রহ প্রকাশ করায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আবারও দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বসতে নীতিগতভাবে রাজি হয়েছে৷ একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে দুই বৈরি দেশের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ও সামরিক উত্তেজনা কমাতে কাতারের বিশেষ মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে একটি নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের রানিং প্রক্রিয়া শুরু করেছেন বলে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *