তেহরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের স্পষ্ট অভিযোগ

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল নৌপথ হরমুজ প্রণালি কোনোভাবেই ইরানের একক সামরিক নিয়ন্ত্রণে নেই এবং সেখানে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌযান চলাচল এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী৷ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শীর্ষ সংবাদমাধ্যম ‘শাফাক নিউজ’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদন থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে৷ মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের এই বিবৃতি এমন এক সময়ে এল যখন ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার পূর্ববর্তী সামরিক সমঝোতা ও যুদ্ধবিরতি চুক্তির রানিং ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে৷

সেন্টকমের ব্রিফিং ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ:

গত শুক্রবার এক বিশেষ প্রেস ব্রিফিংয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (CENTCOM) প্রভাবশালী মুখপাত্র টিম হকিন্স ইরানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জলসীমায় চরম উস্কানি সৃষ্টির অভিযোগ তোলেন৷ তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন— হরমুজ প্রণালিতে সাধারণ বাণিজ্যিক ও পণ্যবাহী জাহাজে কাপুরুষোচিত হামলা চালিয়ে ইরান মূলত পূর্বের আন্তর্জাতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে সম্পূর্ণভাবে লঙ্ঘন করেছে৷ টিম হকিন্স তাঁর যুক্তিতে দাবি করেন— বিশ্ব বাণিজ্যের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত এই প্রণালিতে চলাচলরত বেসামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজে এভাবে অতর্কিত সামরিক হামলা চালানোর পেছনে ইরানের কোনো ধরনের যৌক্তিকতা বা আইনি ভিত্তি নেই৷

ইরানের রানিং সক্ষমতা ও মার্কিন সামরিক প্রস্তুতি:

মুখপাত্র টিম হকিন্স ইরানের বর্তমান সামরিক শক্তি হ্রাস পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে আরও বলেন— সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে চালানো ধারাবাহিক মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর বিশেষ অভিযানের ফলে ইরানের საკუთარი সীমান্তের বাইরে গিয়ে বড় ধরনের কোনো হামলা বা অভিযান চালানোর রানিং সামরিক সক্ষমতা অনেকটাই কমে গেছে৷ তবে ওয়াশিংটন এটিও খুব ভালো করে জানে যে— তেহরান প্রশাসনের কাছে এখনো বিপজ্জনক কিছু আত্মঘাতী ড্রোন ও দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মারাত্মক মজুদ রয়ে গেছে৷ হরমুজ প্রণালির আকাশ ও জলসীমায় যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে তা তাৎক্ষণিকভাবে কঠোরভাবে মোকাবিলা করতে মার্কিন নৌ ও বিমান বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান সেন্টকমের এই মুখপাত্র৷

এর ঠিক আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক আকস্মিক ও কঠোর ঘোষণায় বিশ্ব গণমাধ্যমকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে— ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বের কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তি বর্তমানে আর কার্যকর অবস্থায় নেই৷ ফলে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় এক উত্তপ্ত যুদ্ধাবস্থা রানিং রয়েছে৷

ইউকেএমটিও-এর নৌমাইন ও সর্বোচ্চ সতর্কতা:

এদিকে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (UKMTO) তাদের সর্বশেষ নৌ-বুলেটিনে জানিয়েছে— হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগর সংলগ্ন আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বর্তমানে সাধারণ সময়ের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে৷ এই কারণে ঐ সংবেদনশীল আন্তর্জাতিক জলপথ দিয়ে চলাচলকারী বিভিন্ন দেশের মালবাহী কার্গো, জ্বালানি তেলের ট্যাঙ্কার ও যাত্রীবাহী জাহাজগুলোকে সর্বোচ্চ স্তরের নৌ-সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে৷ একই সাথে পানির নিচে ইরান কর্তৃক বিছিয়ে রাখা সম্ভাব্য ধ্বংসাত্মক ‘নৌনাইন’ (Naval Mines)-এর মারাত্মক ঝুঁকি সম্পর্কে ক্যাপ্টেন ও নাবিকদের সার্বক্ষণিক সজাগ ও রানিং রাডার নজরে থাকার বিশেষ পরামর্শ দিয়েছে ব্রিটিশ এই নৌ-সংস্থাটি৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *