‘আমাদের শান্তি নিয়ে টান দিলে কারও শান্তি থাকবে না’: জামায়াত আমিরের কড়া বার্তা

বর্তমান সরকারের নীতি এবং প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপির কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “দেশে এখনো রাজনৈতিক দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি। আপনাদের নাম ছিল জাতীয়তাবাদী দল, এখন মানুষ বলে চাঁদাবাজি দল।” তিনি দেশের দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

গতকাল শনিবার (১৬ মে) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে ১১–দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “যে ১৬টি অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন না হলে বাংলাদেশের সুশাসন নিশ্চিত করা অসম্ভব, সরকার সেগুলো ফেলে দিয়েছে। এগুলা যদি তারা বাস্তবায়ন না করে, আমি কথা দিয়ে যাচ্ছি, আমাদের আন্দোলন সংসদে এবং একই সঙ্গে রাজপথেও চলবে।” ধোঁকাবাজি ও প্রতারণার বিরুদ্ধে জামায়াত কোনো আপস করবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

জুলাই বিপ্লবের স্মৃতিচারণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তরুণদের নেতৃত্বে গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে এবং সেই আন্দোলনের সুফল ভোগ করছেন বর্তমান ক্ষমতাসীনরা। গণভোটের রায় অগ্রাহ্য করাকে জনগণকে অপমান করার শামিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে অতীতে কেউ রেহাই পায়নি, বর্তমান সরকারও পাবে না।

সংসদে কথা বলতে না দেওয়া হলে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “সংসদে যেখানে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে কথা বলা লাগে, সেখানে যদি কথা বলতে দেওয়া না হয়, তাহলে আমরা জনগণের পার্লামেন্টে (রাজপথে) চলে আসব, যেখানে কথা বলার জন্য স্পিকারের কোনো অনুমতি লাগে না।”

প্রতিবেশী দেশ ভারত প্রসঙ্গে তিনি কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, “আমরা চাই আপনারা শান্তিতে থাকুন। কিন্তু আপনারা যদি আমাদের শান্তি নিয়ে টান দেন, তবে কারও শান্তি থাকবে না।” এছাড়া তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নেরও দাবি জানান তিনি।

জামায়াতের সহকারী জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, জামায়াতের নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলমসহ ১১-দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *