সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার আরামকোর স্থাপনায় হামলার নেপথ্যে ইসরায়েলের সরাসরি হাত রয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) তেহরান ভিত্তিক সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের একজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন।
ইরানি ওই সামরিক কর্মকর্তা আরামকোতে ঘটে যাওয়া হামলাকে একটি ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ অপারেশন বা ছদ্মবেশী অভিযান হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, ইরানের বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েল যে সাম্প্রতিক হামলা চালিয়েছে, সেই অপরাধ থেকে আঞ্চলিক দেশগুলোর দৃষ্টি সরিয়ে নিতেই তেল আবিব এই ষড়যন্ত্রমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে।
সামরিক সূত্রটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, ইরান মার্কিন ও ইসরায়েলি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে হামলার ঘোষণা দিলেও আরামকোর তেল স্থাপনাগুলো কখনোই তাদের নিশানায় ছিল না। সৌদি আরবের মতো আঞ্চলিক প্রতিবেশীদের অবকাঠামোতে আঘাত করার কোনো পরিকল্পনা তেহরানের নেই। বরং ইসরায়েল এই হামলা চালিয়ে ইরানকে দোষী সাব্যস্ত করে মুসলিম দেশগুলোর সাথে তাদের দূরত্ব বাড়াতে চাইছে।
সাক্ষাৎকারে ওই কর্মকর্তা আরও একটি ভয়াবহ সতর্কতা দিয়েছেন। ইরানি গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ইসরায়েলের পরবর্তী ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ অপারেশনের তালিকায় রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজিরাহ বন্দর। ইসরায়েলি বাহিনী এই বন্দরে হামলা চালিয়ে তার দায়ভার ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বলে তেহরান সতর্ক করেছে।
আরামকোতে এই রহস্যময় হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে এখন পর্যন্ত সৌদি আরব বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ইরানের এই দাবির প্রেক্ষিতে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তেহরান আন্তর্জাতিক মহলকে সতর্ক করে বলেছে, ইসরায়েলের এই উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
