ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া— পুরো বাংলাদেশে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকদের আকাশচুম্বী উন্মাদনা আর উড্ডীয়মান পতাকার দৃশ্য চোখে পড়ে৷ তবে চলমান ২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনার মাঝেই এবার ফুটবল সমর্থনের বিষয়টি নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সম্পূর্ণ নতুন ও ব্যতিক্রমী এক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন জাতীয়তাবাদী যুবদলের শীর্ষস্থানীয় নেতা রবিউল ইসলাম নয়ন৷ ফুটবলীয় পছন্দের পেছনে ব্যক্তিগত ভালো লাগার চেয়ে রাজনৈতিক কৃতজ্ঞতা ও সাংগঠনিক বিবেচনাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি৷
আর্জেন্টিনা ছেড়ে ইংল্যান্ড শিবিরের সমীকরণ: যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম নয়ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে জানিয়েছেন— একসময় তিনি ফুটবলের কিংবদন্তি লিওনেল মেসির দল আর্জেন্টিনার কড়া সমর্থক ছিলেন৷ কিন্তু বর্তমানে তিনি আর্জেন্টিনার দল ছেড়ে থ্রি লায়ন্স খ্যাত ইংল্যান্ড ফুটবল দলকে অফিশিয়ালি সমর্থন করছেন৷
হঠাৎ করে ফুটবলীয় দল পরিবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নয়ন অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমাদের প্রধানমন্ত্রী (তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও দলীয় প্রধান) যেহেতু ইংল্যান্ডের সাপোর্টার বা সমর্থক, তাই দলীয় আদর্শ থেকে আমাদের প্রত্যেকের উচিত ইংল্যান্ডকে সাপোর্ট করা৷”
তিনি নিজের বক্তব্যের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে আরও যোগ করেন, “আমাদের পরম নেতাকে দীর্ঘ ১৭টি বছর যাবত আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক আশ্রয়ের পাশাপাশি নানামুখী সাপোর্ট দিয়ে আগলে রেখেছে ইংল্যান্ড সরকার৷ যে দেশ আমাদের নেতাকে এত বছর আশ্রয় দিয়েছে, তার প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বরূপ এখন পুরো বাংলাদেশের মানুষেরই ফুটবলে ইংল্যান্ড দলকে সমর্থন করা উচিত৷”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা: যুবদল নেতার এমন রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন ফুটবলীয় মন্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পরপরই তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় এবং নেটিজেনদের মাঝে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে৷ নয়নের এই মন্তব্য ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে:
নেটিজেন ও ফুটবল বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ বলছেন— ফুটবল বা যেকোনো খেলাধুলা সম্পূর্ণ বিনোদনের অংশ, তাই খেলাকে কখনোই রাজনৈতিক আদর্শ বা সাংগঠনিক সমীকরণের সঙ্গে মেলানো ঠিক নয়৷ খেলাকে খেলার জায়গায় রাখাই শ্রেয়৷
অন্য দিকে যুবদল ও বিএনপির তৃণমূলের অনেক কর্মী-সমর্থক নয়নের এই বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন৷ তাঁদের মতে— নেতার প্রতি এমন অবিচল ভালোবাসা ও রাজনৈতিক ‘একাগ্রতা’ সচরাচর দেখা যায় না৷ নয়নের এই অবস্থান দলের নতুন কর্মী ও সমর্থকদের মাঝে দলীয় নেতৃত্ব ও কৃতজ্ঞতাবোধের এক নতুন প্রেরণা জোগাবে৷ ফুটবল মাঠের লড়াইয়ের বাইরে বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠেও এই ‘ইংল্যান্ড সমর্থন’ নতুন এক আলোচনার অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে৷
