ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ‘শেষ’, আইনি বাধ্যবাধকতা মানবেন না ট্রাম্প

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কংগ্রেস নেতাদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে বর্তমানে যুদ্ধবিরতি চলায় যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য আইনি অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তা তাঁর ক্ষেত্রে আর প্রযোজ্য নয়।

মার্কিন আইন অনুযায়ী, কোনো সামরিক পদক্ষেপের ৬০ দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্টের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। অন্যথায় সেনা প্রত্যাহার বা কার্যক্রম বন্ধ করতে হয়। ট্রাম্পের হামলা শুরুর শুক্রবার ছিল সেই ৬০তম দিন। তবে ট্রাম্পের দাবি, “৭ এপ্রিলের পর থেকে কোনো গুলি বিনিময় হয়নি, তাই ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া শত্রুতা এখন শেষ।” যদিও ডেমোক্র্যাট সিনেটর এবং আইন বিশেষজ্ঞরা এই ব্যাখ্যাকে ‘অসাংবিধানিক’ বলে অভিহিত করেছেন।

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরান আলোচনার জন্য পাকিস্তানের মাধ্যমে একটি নতুন প্রস্তাব ওয়াশিংটনে পাঠিয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছেন, “আমরা ইরানের সঙ্গে কথা বলেছি, কিন্তু আমি এতে সন্তুষ্ট নই। একটি চুক্তিতে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে কারণ তাদের শীর্ষ নেতৃত্ব এখন বিভ্রান্ত অবস্থায় আছে।” উল্লেখ্য, যুদ্ধে ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।

যুদ্ধের প্রভাবে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি এখনো কার্যত বন্ধ। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় কঠোর সতর্কবার্তা জারি করে বলেছে, এই পথ দিয়ে যাতায়াতের জন্য কোনো কোম্পানি যদি ইরানকে ‘টোল’ বা অর্থ প্রদান করে, তবে তারা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়বে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনে সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর ব্যাপক হামলা চালালে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর তেহরানও পাল্টা হামলা চালায়। বর্তমানে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধ বিরতি চললেও স্থায়ী কোনো শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি কোনো পক্ষই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *