ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনায় ৩৯৪ প্রাণহানি; গত বছরের চেয়ে মৃত্যু বেড়েছে ৮ শতাংশ

সদ্য সমাপ্ত ঈদুল ফিতরের আগে-পরে ১৫ দিনে দেশের সড়ক, নৌ ও রেলপথে মোট ৩৭৭টি দুর্ঘটনায় ৩৯৪ জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১ হাজার ২৮৮ জন। গত বছরের তুলনায় এবার প্রাণহানি ৮.২৬ শতাংশ এবং দুর্ঘটনা ৮.৯৫ শতাংশ বেড়েছে।

সোমবার (৩০ মার্চ) বেলা ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদন-২০২৬’ প্রকাশ করে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই প্রতিবেদন তুলে ধরেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৪ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত এই পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, শুধু সড়কেই ৩৪৬টি দুর্ঘটনায় ৩৫১ জন নিহত এবং ১ হাজার ৪৬ জন আহত হয়েছেন। মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৪৩ শতাংশই ঘটেছে জাতীয় মহাসড়কে। এছাড়া রেলপথে ২৩টি দুর্ঘটনায় ৩৫ জন এবং নৌপথে ৮টি দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত হয়েছেন।

প্রতিবারের মতো এবারও দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। ১২৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৬.১২ শতাংশ। এছাড়া দুর্ঘটনার জন্য দায়ী যানবাহনের তালিকায় ২৭.১৬ শতাংশ মোটরসাইকেল, ১৭.৭৩ শতাংশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান এবং ১৬.২২ শতাংশ যাত্রীবাহী বাস ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে মোজাম্মেল হক চৌধুরী অভিযোগ করেন, নতুন সরকার আসলেও পরিবহন খাতে পুরোনো আমলা এবং মালিক-শ্রমিক নেতাদের ‘মাফিয়া স্টাইল’ নিয়ন্ত্রণ বজায় রয়েছে। তিনি বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি না থাকায় এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ফলে মানুষ বাধ্য হয়ে ট্রাক, পিকআপ ও ট্রেনের ছাদে জীবনঝুঁকি নিয়ে ভ্রমণ করেছে, যা দুর্ঘটনা বাড়িয়ে দিয়েছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, একই সময়ে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে মোট ২ হাজার ১৭৮ জন চিকিৎসা নিয়েছেন, যা পরিস্থিতির চরম ভয়াবহতা ফুটিয়ে তোলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *