যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর রক্তক্ষয়ী অভিযান ও ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত রয়েছে। মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহার চতুর্থ দিন শনিবার (৩০ মে) গাজা উপত্যকায় পৃথক ইসরায়েলি ড্রোন ও কামান হামলায় একজন ফিলিস্তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ অন্তত দুজন নিহত এবং এক শিশুসহ বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
ফিলিস্তিনি হাসপাতাল সূত্রগুলো জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকার আল-ইয়াফা মেডিকেল হাসপাতালের অ্যানেসথেশিয়া বিভাগের প্রধান অত্যন্ত জনপ্রিয় চিকিৎসক ডা. জামাল আবু আবাউন। আল-আকসা শহীদ হাসপাতালের ঠিক কাছেই অবস্থান করা সাধারণ বেসামরিক লোকজনের একটি দলের ওপর ইসরায়েলি বাহিনী আকস্মিক ড্রোন হামলা চালালে তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। হাসপাতাল সূত্রের বরাতে জানা গেছে, হামলার পর ডা. জামাল আবু আবাউনের মরদেহ এবং এক শিশুসহ আরও তিনজন গুরুতর আহত ব্যক্তিকে দ্রুত উদ্ধার করে আল-আকসা শহীদ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
এর আগে শনিবার দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর কামানের তীব্র গোলাবর্ষণ হয়। একই দিনে মধ্য গাজার আল-বুরেইজ শরণার্থী শিবিরেও ব্যাপক গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া যায়।
ফিলিস্তিনি সরকারি বার্তা সংস্থা ‘ওয়াফা’ (WAFA) জানিয়েছে, পরবর্তীতে গাজা সিটির অত্যন্ত ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা ‘ফিরাস মার্কেটের’ কাছে ইসরায়েলি বাহিনীর আরেকটি ড্রোন হামলায় আরও একজন ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত এবং বেশ কয়েকজন পথচারী আহত হন। এছাড়া উত্তর গাজার বেইত লাহিয়ার পূর্বাঞ্চলে ডজনখানেক ফিলিস্তিনি বাড়িঘর সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী, যার ফলে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার আবাসিক এলাকাগুলোতে চলমান ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ আরও বিস্তৃত রূপ নিয়েছে।
এদিকে গাজার পাশাপাশি অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকাতেও চরম উত্তেজনা ও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। ফিলিস্তিনি স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, উত্তর ও দক্ষিণ পশ্চিম তীরের কয়েকটি মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় কট্টরপন্থি ইসরায়েলি অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর, কৃষিজমি ও ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও যুদ্ধবিরতির তোয়াক্কা না করে ঈদের দিনেও এমন বর্বরোচিত হামলা চালানোয় বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে।
