নিজ দেশের জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং বিদেশি শত্রুদের সাথে গোপন সহযোগিতা করার অভিযোগে বড় ধরনের শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে ইরানের বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ। শত্রুদের আর্থিক ও তথ্যগতভাবে সাহায্য করার দায়ে দেশের অন্তত ৭৫ জন নাগরিকের সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইরানের সেন্ট্রাল প্রদেশের জেনারেল ও রেভোলিউশনারি প্রসিকিউটরের কার্যালয় থেকে রোববার (৩১ মে) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রদেশের জেনারেল ও রেভোলিউশনারি প্রসিকিউটর জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিদেশি শত্রু রাষ্ট্র ও তাদের গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের সঙ্গে সরাসরি সহযোগিতা করার এবং ইরানের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বলে বিবেচিত বিভিন্ন কার্যকলাপে সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট ও অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তিনি আরও জানান, এই ‘বিদেশি শত্রু নেটওয়ার্কের’ সাথে কথিতভাবে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইরানের আরাক (Arak) শহরে ইতোমধ্যে পৃথক ৭৫টি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষ আদালতগুলো অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এই মামলাগুলোর আইনি নিষ্পত্তি এবং অভিযুক্তদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।
বিবৃতিতে প্রসিকিউটর অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সতর্ক করে দিয়ে বলেন, নিজ দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা এবং ইরানি জাতির চিরশত্রুদের সঙ্গে যেকোনো ধরনের সহযোগিতা করার অপরাধে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্নকারী কাউকে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন।
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং বিদেশি শক্তির প্রভাব উচ্ছেদ করতে ইরান সরকার যে শূন্য-সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি গ্রহণ করেছে, এই গণ-সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের ঘটনা তারই একটি অংশ।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
